নওগাঁয়  পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা থেকে ৪ টাকা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

 

নওগাঁ প্রতিনিধি

Manual1 Ad Code

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁয়  বোরা ধানের ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি চাল পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে ২ টাকা থেকে ৪ টাকা । ফলে এর প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারেও । এতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষরা পরেছেন বিপাকে। ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ক্রেতা না থাকায় চাল বেচা-কেনা নেই । তারপরও গত ১০/১২ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে চালের দামি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি ও মিল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের উৎপাদনও বেড়ে গেছে। ফলে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান,  নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ  হয়েছে। জেলায় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপদন হওয়ার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও ধান চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও রোগবালাই না থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়েছে।

জেলার রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর, লোহাচুড়া, ত্রিমোহনী, মহাদেবপুর উপজেলা সদর,  সরস্বতীপুর   ও মাতাজি  হাট ঘুরে জানা গেছে,  বর্তমানে হাইব্রিড ধান ৯০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা, জিরাশাইল ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা, কাটারি ১১শ’ টাকা থেকে ১১শ’ ৪০ টাকা, পায়জাম ধান  ৯৪০ টাকা থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে  প্রতি  মণ  ধানের  দাম ৮০-১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Manual7 Ad Code

নওগাঁ পৌর বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানান, গত ১০/১২ দিনের ব্যবধানে প্রকার ভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ২-৪  টাকা বেড়েছে । বর্তমানে জিরাশাইল প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৫৩ টাকা, কাটারি ভোগ ৫৫ টাকা থেকে ৫৮ টাকা ও  বিআর আটাশ  ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়  বিক্রি  হচ্ছে।  অর্থাৎ প্রতি ৫০ কেজি ওজনের  বস্তার দাম বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা ।

Manual2 Ad Code

নওগাঁ কাঁচা বাজারে এলাকায় কথা হয় রিক্সা চালক জসিম উদ্দিন, লকডাউনের মধ্যে গোপনে সারাদিন রিক্সা চালিয়ে  দুইশ’ টোকা থেকে আড়াইশ’ টাকা আয় হয়। রিক্সা ভাড়া ৫০ টাকা দিয়ে চাল কিনার পর কিছু থাকে না। কোন মতে দিন পার হচ্ছে। আরেক ঘর নির্মাণ শ্রমিক আবু জাফর জানান, লকডাউনের সময় কোনদিন কাজ হয় কোনদিন হয় না। কাজ হলে ৪শ’ টাকা পান। এই টাকা দিয়ে সংসারের  বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বর্বশান্ত হচ্ছেন।

নওগাঁ পৌর বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী উত্তম কুমার জানান,  ধানের জেলা হয়েও ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ছে। বিগত বছরগুলোতে কখনো এমন হয়নি । তিনি আরো বলেন, সরকারি গুদামে  ধান-চাল সংকট রয়েছে । সেটা পুরণ করতে ধান ও চালের দাম বৃদ্ধি করায় মিল ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করায় বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল উৎপাদন করতে খরচও  বেশি পড়ছে । এ কারণে বাজারে চালের দাম বাড়ছে।

Manual5 Ad Code

নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন সরদার বলেন, গত বছর কৃষকরা ধান মাড়াই করেই হাটে বিক্রি করেন । কিন্তু এ বছর সামান্য পরিমাণ ধান হাটে বিক্রি করে বাকিটা ঘরে মজুত করে রেখে দিয়েছেন ।  ফলে হাট-বাজারে ধানের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে । চাহিদার তুলনায় বাজারে ধানের সরবরাহ কম হওয়ায় সঙ্গত কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ধান কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চালের দামও বেড়ে গেছে।

নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, গত বোরো ও আমন মৌসুমে কৃষকরা সরকারি গুদামে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হওয়ায় ধান সরবরাহ করতে পারেননি । অপরদিকে বাজারে ধানের বাজারের সাথে সমন্বয় না করে সরকার চালের দাম কম নির্ধারণ করায় মিল ব্যবসায়ীরাও সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেননি। গত দুই মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান-চালের কিনতে না পারার বিষয়টি জেনে ধান তাদের ঘরে মজুদ করেছেন আগামিতে ধানের দাম বেশি পাওয়ার আশায় । তিনি আরো জানান, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের উৎপাদনও বেশি পরছে । অনেক মিল ব্যবসায়ী গত বছরগুলোর মতো সরকারি গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহে ইত্যে মধ্যে অনিহা প্রকাশ করেছেন।

প্রতি বছর নওগাঁয় ১৬ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হয়ে থাকে। জেলার ৪ লাখ মেট্রিকটন চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে বাঁকি ১২ লাখ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ হয়ে থাকে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code