নওগাঁয় ব্যাটারি পুড়িয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক শিশা তৈরি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বলিহার ইউনিয়নে একটি অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা সদরের বলিহার ইউনিয়নে কসবা গ্রামের বামনছাতা যাবার রাস্তার পার্শে বিলের মধ্যে কারখানাটির অবস্থান। এই কারখানার কারণে ব্যাটারির অ্যাসিডের তীব্র গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর একদিকে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কারখানাটির পাশেই বসতবাড়ি রাস্তা লোকজন চলাচল করায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে। এটি দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, কারখানার ভেতরে শ্রমিকেরা কোন নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছেন। কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড বের করে সংরক্ষণ করছেন। শ্রমিক সোহাগ হোসেন জানান, চুলি¬র মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য বা প্লেট সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শিষা তৈরি হয়। পুরোনো ব্যাটারি থেকে প্লেট খুলে তিনি টনপ্রতি ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই কাজ করতে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। অন্য শ্রমিকেরা আরো জানান, কারখানায় দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত ব্যাটারি থেকে প্লেট খোলা ও অ্যাসিড সংরক্ষণের কাজ করা হয়। আর রাত ১০টার পর প্লেটসহ আনুষঙ্গিক জিনিস পুড়িয়ে শিশা তৈরি করা হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক রাতে ১ হাজার ২০০ কেজি থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি শিশা হয়। এ জন্য প্রায় দেড় টন ব্যাটারির প্লেট লাগে। ব্যাটারির ওপরের অংশ প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরিতে কাজে লাগে। যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন তাঁরা। উৎপাদিত শিশা তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন চায়না ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করেন। তাঁদের কারখানার কোন বৈধ কাগজ পত্রের এখনো প্রয়োজন পড়েনি। তবে বলিহার ইউনিয়ন পরিশোধ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি।
নওগাঁর সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ব্যাটারির বর্জ্য পুড়িয়ে শিশা তৈরি করলে তা আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে পয়জনিং (রক্তকণিকা ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতি করা) সৃষ্টি করে। এর ফলে মানষিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি ২/১ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code