নওগাঁ আউশ ধানের ভালো দামে হাসির ঝিলিক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে আউশ ধানের কাটা মাড়াইয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের তেরোমাইল মোড় প্রধান অতিথি হিসেবে আউশ ধান কাটার উদ্বোধন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্রনাথ রায়।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সামসুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এ সময় জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার রবি আহ নূর আহম্মেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের, আলী রিয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উত্তর আন্ধারকোটা গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদের জমির উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৪৮ এবং পারিজা জাতের ধান কর্তন করা হয়।
কৃষক লিয়াকত হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের মরণ দশা। তবে করোনার খারাপ সময়ের মধ্যেও কৃষক এবার ধানের দাম পাচ্ছেন। অন্য বছর কষ্টের ফসল বাজারে নিয়ে দাম শুনে হতাশ হলেও এবার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক। বাজারে প্রতি মণ ধান ৮শ’৫০ টাকা থেকে ৯শ’ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তারের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বেশি প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। এবার হেক্টর প্রতি ৩.২ থেকে ৩.৩ টন হারে ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ থেকে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী, পতœীতলা, নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে ব্যাপক হারে আউশ ধান চাষ হয়েছে। সবুজ ধানের সোনালী শীষে ছেয়ে আছে খেতগুলো। যা দৃষ্টিসীমাকেও ছাপিয়ে যায়। সেসব খেতে দলবেঁধে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। বর্তমানে উদ্দাম গতিতে চলছে ধান কাটা মাড়াই এর কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। ধান কাটার পর উচুঁ স্থানে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার হয়েছে। আউশ কাটার সাথে সাথে রোপা আমন লাগানো চলছে। অনেক এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে রোপা আমন ধান চাষও শেষ করেছেন। আউস মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে আরও ৮-১০ দিন সময় লাগবে -এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, এটি তাদের সারা বছরে উৎপাদিত ফসলের মধ্যে বাড়তি ফসল। যা থেকে বাড়তি আয় আসে। আর অসময়ে এ বাড়তি আয় তাদের সংসারের অভাব অনেকটাই ঘুচিয়ে দেয়।
খোসালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, ধর্মপুর গ্রামের আবু তাহের, বামনসাতা গ্রামের সোহেল রানাসহ একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধান ঘরে তোলার পর আমন চাষের আগে বেশিরভাগ জমি প্রায় তিন মাস পরে থাকে। এই সময়টাতে কৃষকরা আউশ ধান আবাদ করে ফলন ঘরে তোলার পর আবার রোপা আমন ধান চাষ করে। এতে জমি ফেলে না রেখে বাড়তি ফলন ঘরে তোল যায়। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে গেল দু’সপ্তাহ ধরে এই ধান উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতিমণ কাঁচা ধান ৮শ’৫০ থেকে ৯শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধান চাষ হয়। আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাজারে ধানের দাম ভালো। আউশ ধান চাষে তেমন সেচ ও সারের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকরা জমি ফেলে না রেখে চাষকরে ঘরে ফলন তোলে। এটাকে তারা আপদকালিন বা বাড়তি ফলন বলে থাকে।
রাজশাহী অঞ্চলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। এবার আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া বাজারে ধানের দামও মোটামোটি ভালো থাকায় কৃষক বেশ লাভবান হয়েছেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code