যশোরের ব্রি-৮৭ জাতের চিকন ধানের জাত উদ্ভাবন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

আব্দুল মান্নান, শার্শা (যশোর):

যশোরের শার্শা সহ ৮টি উপজেলায় থেকে গুটি স্বর্ণ ধানকে বিদায় জানাতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউড থেকে ব্রি-৮৭ জাতের চিকন ধানের জাত উদ্ভাবন করায় স্বর্ণ জাতের চাষে আগ্রহ কমেছে চাষিদের। ব্রি-৮৭ জাতের চিকন ধান প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে ২৭-৩০ মন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। তা ছাড়া স্বর্ণ ধান ১৪৫ দিন জীবন কাল এবং ব্রি-৮৭ চিকন আমন ধানের জীবন কাল- ১২৭ দিন। স্বর্ণ ধান কাটার ১৫দিন আগেই কর্তন করা যায় ব্রি-৮৭ জাতের চিকন আমন ধান। মোটা জাতের স্বর্ণ ও গুটি স্বর্ণ ধান বাজারে বিক্রয় করতে গেলে আড়ৎ বা মহাজনরা কথাই বলতে চান না। যে কারণে আমন মৌসুমের জন্য উদ্ভাবিত নতুন ব্রি-৮৭ জাতের চিকন আমন ধান চাষিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কারণ চিকন জাতের আমন ধান ফলন ও বেশী দামে বিক্রয় করা খুবই সহজ। আড়ৎদার, চাতাল মালিক ও মহাজনরা আগ্রহ ভরে খরিদ করছেন চাষিদের কাছ থেকে শুধু তাই নয় চিকন জাতের এই জাতটি উচু জমিতে লাগালেও আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া যে সকল জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করা হয় যেমন ব্রি-৮৭ জাতের ধান সময়ের ব্যবধান হিসেব করে চাষ করলে নির্ধারিত সময়ে ঐ ধান কর্তন করে, সরিষা মুসুরডাল, ছোলা সহ বিভিন্ন ডাল জাতীয় আবাদ করা যাবে। নির্ধারীত মৌসুমের সময় অনুসারে এবং সরিষা কর্তন করে বোরো চাষ করা যাবে অতি সহজে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউড থেকে উদ্ভাবিত ব্রি-৮৭ চিকন জাতের এই ধান যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, অভয়নগর, বাঘারপাড়া, কেশবপুর, ৮টি উপজেলায় নতুন এ ধানের জাতটি চাষ করায় চাষিদের ভাগ্য সু-প্রসুন্নিত হয়েছে। এ বছর শার্শা উপজেলায় কৃষি অফিসারে পরামর্শক্রমে ১১টি ইউনিয়নের ৩০ জন চাষির মাধ্যমে ৩০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের চিকন ধানের চাষ করে প্রত্যেক চাষি সফল হয়েছেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউড থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের মাধ্যমে চাষ করে ফলন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৌলিক সারির মাধ্যমে জীবন কাল নির্ধারণ করে আমন ধানের ব্রি-৮৭ জাতের ধানটি চাষিদের মাধ্যমে চাষ করা হচ্ছে। ধান গবেষণা সুত্র থেকে জানা গেছে পূর্ণ বয়ষ্ক ধান গাছের গড় উচ্চতা ১২২ সেন্টিমিটার, ধান গাছের কান্ড শক্ত, গাছ লম্বা হলেও ঢলে পড়ে না। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে কোন কোন সময় ঝড় হওয়ার কারণে হেলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাতা হালকা সবুজ, ডিগ পাতা খাড়া এবং ব্রি-৪৯ জাতের চেয়ে লম্বা ও প্রশস্তু। ধান পাকার সময় কান্ড ও পাতা সবুজ থাকে, চালের আকার ও ধানের আকৃতি চিকন লম্বা, এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৭%। ব্রি-৮৭ এর জীবন কাল ব্রি-৪৯ এ চেয়ে ৭দিন কম এবং ফলন ও বেশী। চিকন লম্বা জাতের ধান উৎপাদনে চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তা ছাড়া স্বর্ণ ধান চাষিরা মোটা জাতের এই ধান আগামীতে চাষ না করার মানুষিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ল আষাঢ় থেকে ২১শে আষাঢ়ের মধ্যে ব্রি-৮৭ জাতের ধান চাষ করতে হয়। চারার বয়স ২৫ থেকে ৩০ দিন হতে হবে। প্রতি গুছিতে ২/৩টি চারা রোপন করতে হবে এবং ২৫ী১৫ সেন্টিমিটার দূরুত্বে গাছ লাগাতে হবে। ২১শে আষাঢ় মাসের পরেও এ্রধান চাষ করা যাবে তবে ঐ জমিতে নির্ধারীত সময়ে সরিষা চাষ করার পর কর্তন করে বোরো ধান চাষ করা যাবে না। ধানের ফলন ঠিক রাখতে হলে চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হতে হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৪ কেজি ইউরিয়া, টিএসপি ১১ কেজি, এমও পি-১৩ কেজি, জিপসাম ৯ কেজি এবং জিংক সালফেট ১.৬ কেজি। এ ক্ষেত্রে অঞ্চল ভিত্তিতে সারের মাত্রা কিছু বাড়াতে পারেন চাষিরা। চাল শক্ত ও পরিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত পানির প্রয়োজন হলে সেচ দিতে হবে। ব্রি-৮৭ জাতের রোগ বালাই ও পোকা মাকড় আক্রমন প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেকাংশে কম। পোকা মাকড় রোগ বালাই দেখা দিলে অবশ্যই কৃষি দপ্তরের সমন্বিত বালাই দমন ব্যাবস্থাপনা ব্যাবহার করতে হবে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code