

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সিএএ সংখ্যালঘু বিরোধী না। তাই এটা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই নেই। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) শুক্রবার একহাত নিয়ে এ কথা বললেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
যোধপুরে সিএএ-পন্থি এক জনসভা থেকে বিজেপি সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেস ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতি করছে। সিএএ নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশনা করছে। পাশাপাশি সিএএ নিয়ে বিরোধী অবস্থান নেওয়া বিরোধী দলগুলির প্রতি অমিত শাহের অভিযোগ, ‘মমতা বন্দোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি আর কংগ্রেস এই আইনের বিরোধিতা করছে। ওরা মিথ্যা প্রচার করছে।’
পাশাপাশি কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীকে এদিন ঘুরিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপির সভাপতি। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা থাকলে সামনে এসে এই আইন নিয়ে আলোচনা করুন। নয়তো আমি আইনের প্রতিলিপি ইতালিয়ানে অনুবাদ করে দিচ্ছি পড়ে দেখুন।
তিনি যোধপুরের সভা থেকে বলেন, ‘কংগ্রেস ভুল তথ্য প্রচার করছে। যাতে বিভ্রান্ত হয়ে দেশের যুব সমাজ পথে নেমেছেন। ওরা (কংগ্রেস) চেষ্টা করে যাক, আমরাও সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব সংখ্যালঘু আর যুবদের কাছে পৌঁছতে।’ সিএএ—বিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতায় এবার জনসংযোগ যাত্রার ডাক দিয়েছে বিজেপি। সেই যাত্রার অংশ হিসেবে যোধপুরে সভা করলেন তিনি।
এই যাত্রা দিয়ে দেশের ৩ কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছতে চায় বিজেপি। তাদের কর্মসূচিতে আছে পথ নাটিকা, পদযাত্রা, ডোর-টু-ডোর প্রচার এবং ঐ আইন নিয়ে মানুষকে সজাগ ও সচেতন করা। ইতিমধ্যে, এই সিএএ বিল গত ১১ ডিসেম্বর আইনে রূপান্তরিত হওয়ার পরেই পথে নামে ছাত্র-যুব সমাজ। কিছু রাজ্যে সিএএ-বিরোধী আন্দোলন হিংসাত্মক আকার নেয়। সরকারি পরিবহন ও সম্পত্তির ওপর যথেচ্ছ ভাঙচুর চলে। অভিযোগ, পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে এযাবত্কাল প্রাণ গিয়েছে প্রায় ২৫ জন মানুষের। উত্তর প্রদেশে সেই সংখ্যাটা বেশি।
এই আইন নিয়ে ও এনআরসি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেরালা বিধানসভা সিএএ-বিরোধী একটা প্রস্তাব পাশ করেছে। সরকারি সূত্র বলছে, পড়শি তিন মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র থেকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার জেরে এদেশে আসা সংখ্যালঘুরা দ্রুত নাগরিকত্ব পাবেন। বিরোধীরা বলছে, এই আইন মুসলিম ভাবাবেগ বিরোধী আর সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি।