নানান সমস্যায় ভুগছে ফরিদপুরের পাট চাষীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের কৃষকরা গত কয়েক বছর পাট চাষে লাভের মুখ দেখলেও এবার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। করোনাকালীন লকডাউনের কারণে পাট কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। আবার এ বছর অতিবৃষ্টিতে পাটের গোড়ায় পানি জমলেও ডোবা, খাল-বিলে পাট জাগ দেওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত পানি।

জেলায়  এবার ৮৬ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

তবে পানির সংকটে পাট জাগ দেয়ার সমস্যা ভুগছে চাষিরা। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, সামনের কয়েকদিন আরও বৃষ্টি হবে। তখন এই সমস্যা কেটে যাবে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পাটচাষি রাশেদ মণ্ডল এবার দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। চাষের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েন। জমিতে সেচ দিয়ে পাটবীজ বপন করেন। তখন খরচ বেড়েছে অনেক। এরপর আবার হানা দিয়েছে পাট গাছের গোড়া পঁচা রোগ।

একই উপজেলার আরেক কৃষক শেখ এনায়েতের জমির পাট পরিপক্ক হয়েছে। এখন সেই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা তার।

শেষ সময়ে এসে প্রচুর বৃষ্টির দেখা পেলেও তাতে খাল-বিলগুলোতে পাট জাগ দেয়ার মতো পানি জমেনি। এনায়েতের মতো অনেক কৃষকই তাদের পাট পরিপক্ক হওয়ার পরও পানির অপেক্ষায় তা কাটতে দেরি করছেন।

জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয় সালথা উপজেলায়। সেখানকার কৃষক মজিদ শেখ বলেন, শীতের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছি। গত কয়েকবারের থেকে এবার বেশি টাকা খরচ হয়েছে। এখন আবার নতুন সমস্যা পাট জাগ দেয়া। খরচ বিবেচনা করে সরকার যেন উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করে।

সালথা উপজেলায় এবার ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি মাঠেই পাট পরিপক্ক হওয়ার আগেই গাছ মরে যাচ্ছে এবং অতিবৃষ্টির কারণে পাটের গোড়ায় পানি জমে পচন ধরছে।

Manual3 Ad Code

পুরুরা গ্রামের পাটচাষি মো. শামিম মোল্যা বলেন, এ বছর পাট চাষ করে বিপদে পড়েছি। সঠিক সময়ে পাটের যত্ন নিতে পারি নাই। তাও প্রথম দিকে পাটের গাছ ভালই হয়েছিল। কিন্তু পরে অতিবৃষ্টির কারণে পাটের আঁশ শক্ত হয়নি, ফলনও কম হয়েছে। এ কারণে অন্তত ১ মাস সময় থাকতেই পাট কাটতে বাধ্য হয়েছি। তবে এ বছর অতিবৃষ্টিতে পাটের গোড়ায় পানি জমলেও ডোবা, খাল-বিলে নেই পর্যাপ্ত পানি।

সালথা উপজেলা উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, সালথার পাটচাষিরা এ বছর জাত নির্ধারণ না করেই পাটের বীজ বপন করে। তবে সরকারিভাবে যে বীজ প্রদান করা হয়েছে সেগুলোতে মোটামুটি ফলন ভালই হবে। পাট গাছ পানিতে অন্তত ১৫ দিন থাকলেও গাছের কোনো ক্ষতি হবে না।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর কৃষকরা যাতে পাট চাষে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. হযরত আলী পাটের গোড়া পঁচা রোগ ও জাগ দেয়ার সমস্যা নিয়ে বলেন, ‘তোষা জাতীয় পাট সাধারণত উঁচু জমিতে ভালো হয়। যেসব নিচু জমিতে এই পাট হয় সেখানে পাটের গোড়ায় পানি জমলে এই পাট গাছ মারা যায়। তবে উঁচু যেসব জমিতে পানি জমে না, এসব ক্ষেত্রে এর কোনো সমস্যা হয় না। এবার পাট চাষের প্রথম দিকে দেশে বৃষ্টিপাত হয়নি। তখন কৃষক সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছেন। যারা পারেননি তারা এবার পাট চাষ করেননি। এখন আবার কয়েকটি এলাকায় পাট জাগ দেয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কয়েকদিন পরে জাগ দেয়ার কোনো সমস্যা থাকবে না।’

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code