নারী পোশাকশ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি বাড়িয়েছে করোনা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক বিশেষত গার্মেন্টস খাতের নারী শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক হওয়ায় কাজ হারানোর তালিকায় তারাই বেশি। ফলে দিনে দিনে তারা যে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করছিল, তা এখন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘরে বাইরে তাদের ফের নির্ভরতায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে তাদের হয়রানি এমনকি সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। করোনার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক কয়েকটি দেশের ওপর এক সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। গতকাল শুক্রবার বিশ্বব্যাপী ঐ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

Manual5 Ad Code

 

বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, লেসোথো, ভিয়েতনাম ও কেনিয়ার পোশাকশ্রমিকদের ওপর ঐ সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের অতিমারির কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে এশিয়ার দেশগুলোর তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা লে-অফের (সাময়িক বন্ধ ঘোষণা) পথে হাঁটতে থাকে মালিকপক্ষ। পরবর্তী সময়ে কারখানা চালু হওয়ার পরও অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক শ্রমিক দিয়েই কাজ করা হয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে গত বছর নাগাদ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি পোশাকশ্রমিক ছিল, যা বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস খাতে কর্মরত শ্রমিকের চার ভাগের তিন ভাগ। এসব শ্রমিকের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী শ্রমিক।

Manual1 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে এ ধরনের নারী শ্রমিকদের প্রতি হয়রানি এবং বৈষম্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরো খারাপ হয়েছে। মজুরি কমে গেছে, তাদের কণ্ঠস্বরও ছোট হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে অযাচিতভাবেই তাদের ওপর ঘরের কাজের চাপও (যা কোনো মজুরির হিসাবে নেই) বেড়েছে।

 

আইএলওর বেটার ওয়ার্ক প্রকল্প পরিচালিত ঐ সমীক্ষায় বলা হয়, কর্মসংস্থানের ফলে আলোচ্য দেশগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। ফলে ঘরেও আয়-ব্যয়ের সিদ্ধান্তে তাদের সম্মান ও প্রভাব বেড়েছিল। শুধু তাই নয়, পুরুষরাও ঘরের কাজে অংশ নিয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় এসব নারী শ্রমিকের কাজ হারানো, কিংবা আয় কমে যাওয়ায় তাদের সেই স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। তাদের ফের অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, এ দেশে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকের ৬০ শতংশই নারী। এ খাতে নারীর কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসায় তাদের যে কেবল আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জায়গা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, দক্ষ ও অনুগত শ্রমিকের ঘাটতিও বাড়তে থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতকে আগের অবস্থায় ফেরাতে কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয় আইএলওর পক্ষ থেকে। কারখানা চালুর পর কর্মচ্যুত হওয়া এসব শ্রমিকের ফেরার পথ খোলা রাখার বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিকে কার্যকর উপায়ে মোকাবিলা করা, যাতে নারী ও পুরুষ শ্রমিক কর্মক্ষেত্র ও বাসায় নিরাপদ থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নারী শ্রমিক তথা নারীদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলা কিংবা তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জায়গাটি যাতে সচল রাখা যায়—তাতে গুরুত্ব দিয়েছে আএলও। এ লক্ষ্যে সরকার, কারখানা মালিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।

Manual8 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code