নাস্তানাবুদ আর্জেন্টিনা,বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:এমন একপেশে ফাইনাল শেষ কেউ কবে দেখেছিল? ২০১৮ সালের ফাইনালে ফ্রান্স ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারায়।সেই ম্যাচেও এতটা অসহায় লাগেনি ক্রোয়েশিয়াকে।মদ্রিচরা একাধিক জালের দেখা পেয়েছিলেন, তৈরী করেছিলেন অনেক সুযোগ।স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খুঁজেই পাওয়া যায়নি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।পাসিং,পজিশন, শট-ম্যাচে লা রোজাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল একচেটিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট কোনরকম স্পেনকে ঠেকিয়ে রেখেছিল আর্জেন্টিনা।

Manual3 Ad Code

তবে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের আলবিসেলেস্তেরা আর পারেনি। আর তাতেই ১৬ বছর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের মুকুট হাতে উঠে স্পেনের।অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামসের পাসে বল পেয়ে দারুণ এক ভলিতে গোল করলেন বদলি নামা ফেরান তোরেস। তাঁর এই গোলেই দশজনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল লুইস দে ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

Manual8 Ad Code

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার।তবে নিখুঁত ফুটবলে প্রথম মিনিট থেকে মেসিদের বোতলবন্দী করে ফেলে স্পেন।ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ডি-বক্সে ডান পাশ বল পান লামিন ইয়ামাল। গোলমুখে শটও নেন, তবে বাম পাশে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ফিরতি বল পেয়ে ফের আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ প্রতিহত করেন।

১৭ মিনিটে লিওনেল মেসিকে ফাউল করে ফ্রি-কিক উপহার দেন আলেক্স বায়েনা। রদ্রিগো ডি পলের নেওয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে ব্যাক পোস্টে ছুটে আসা নিকো গনসালেসকে খুঁজে পেলেও বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন তিনি।এরপর বাকিসময়ে ম্যাচের গল্প ছিল স্পেনময়।গোলপোস্টের সামনে এমি মার্টিনেজ না থাকলে এই স্কোরলাইন অনেক বেশি মলিন হতো আর্জেন্টিনার জন্য।ওইয়ারসাবাল ২৮ মিনিটে জোরালো শট ঠেকান দারুণ দক্ষতায়।

Manual4 Ad Code

দ্বিতীয়ার্ধেও ক্ষুরধার লা রোজারা আরও পাঁচটি গোল হওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু নকআউট পর্বে ছয় গোল খাওয়া আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি এদিন টুর্নামেন্টের সেরা ছন্দে ছিলেন। ইয়ামাল-তোরেস-ওলমোদের একের পর এক শট ফেরান তিনি। আক্রমণের সুযোগ না পেয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময় পাড়ি দিয়ে পেনাল্টিতে নেওয়ার ছক কষছে।

তখনই ম্যাচের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সিকে কঠিন ফাউল করেন তিনি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন তখনই ধুলোয় মিশে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধেও (১০৫ মিনিট) কোনো স্পেনকে ঠেকিয়ে রাখেন মার্টিনেজ। অবশেষে ১০৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেররান তোরেস। ডান পাশ থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পাসে বাম পায়ের শটে গোল করেন তোরেস। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ২৫তম গোল।

Manual5 Ad Code

এর আগে, ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ালেও তার আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিকে ফাউল করায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ১১৩ মিনিটে তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও বল রিসিভের সময় অফসাইডে থাকায় সেটিও বাতিল হয়।ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ আর্জেন্টিনা শেষ কয়েক মিনিট চেষ্টা করে যায় প্রানপণ।শেষ মুহূর্তে হুলিয়ানো সিমিওনের হেড বারের অনেক ওপর দিয়ে উড়ে গেল, আর্জেন্টিনার শেষ আশাটুকও নিভে যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code