নিয়মিত গ্যাসের ঔষধ খেলে সৃষ্টি হতে পারে যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর বা গ্যাস হলেই অনেকেই নিজের মতো করে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব ওষুধ দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে। তবে সমস্যা দেখা দিতে পারে যখন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে ওষুধ সেবন করা হয়। গ্যাসের জন্য ব্যবহৃত অনেক ওষুধ পাকস্থলীর অ্যাসিডের পরিমাণ কমিয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট রোগ বা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এগুলো বেশ কার্যকর। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ধরে সেবন করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

দীর্ঘদিন খেলে কী হতে পারে?

অ্যাসিড কমানোর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারের সঙ্গে কয়েকটি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যেমন-

১. ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

Manual5 Ad Code

পাকস্থলীর অ্যাসিড খাবার থেকে ভিটামিন বি১২ শোষণের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন অ্যাসিড কমানোর ওষুধ ব্যবহারে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বি১২-এর ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

২. ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া

দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা হয়।

Manual1 Ad Code

 

৩. কিডনির সমস্যা

Manual6 Ad Code

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট ধরনের অ্যাসিড-নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক দেখা গেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

৪. হাড়ের স্বাস্থ্যে প্রভাব

দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কিছু অ্যাসিড কমানোর ওষুধ ব্যবহার করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে অন্যান্য ঝুঁকি থাকলে।

শুধু ওষুধ খেয়ে উপসর্গ চাপা দেবেন না

বারবার এসিডিটি বা বুকজ্বালা হলে শুধু ওষুধ খেয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই সমস্যা বারবার হলে কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। বিশেষ করে কিছু লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন- খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হওয়া, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, বমিতে রক্ত দেখা, কালো বা আলকাতরার মতো মল হওয়া, রক্তাল্পতা ধরা পড়া ও রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো তীব্র বুকজ্বালা।

Manual7 Ad Code

গ্যাসের ওষুধ কি তাহলে খাওয়া যাবে না?

অবশ্যই নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে গ্যাসের ওষুধ ব্যবহার করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো উপকারী। তবে নিজে থেকে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর নিয়মিত খেয়ে যাওয়ার অভ্যাস ঠিক নয়। বারবার এসিডিটি হলে ওষুধের নাম ও মাত্রা নিজের মতো করে পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার জন্য কতদিন ওষুধ প্রয়োজন, সেটিও চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code