

সম্পাদকীয়: তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান ঘোষণা করেছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তুরস্কের কোনো ‘ইতিবাচক চিন্তা’ নেই। শীতল যুদ্ধের সময়ও যে দু’টি দেশ নিরপেক্ষ ছিল, সে দু’টি এখন যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে ন্যাটো জোটে তরী ভিড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টোলটেনবার্গও বললেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন কোনো সমস্যা ছাড়াই দ্রুত জোটে আসবে। রাশিয়ার আপত্তি সত্ত্বেও, ৩০ জুন মাদ্রিদ শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে দুই দেশের সদস্যপদ অ্যাজেন্ডায় থাকছে। ইউক্রেন সঙ্কট ছাড়াও, ন্যাটোর নতুন সম্প্রসারণ পাশ্চাত্য ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে, যা মস্কোর জন্য আরো একটি দুঃস্বপ্নের সৃষ্টি করবে। সীমান্তের দেশ ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিচ্ছে এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল, মস্কো জানায়, যেসব দেশ ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেবে তারাও আক্রমণের টার্গেট হবে।” নিরপেক্ষ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো জোটে যোগদান, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিধিকেও বিস্তৃত করতে পারে।
এরদোগান আওয়াজ তুলেছেন যে, এই ইস্যুটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক ‘হট-টপিক’ হয়ে উঠেছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিরা গ্রিস ও ন্যাটোর বিষয়ে ভুল করেছে। আপনারা জানেন, ন্যাটোর সহায়তায় গ্রিস তুরস্কের সাথে কেমন আচরণ করছে। আমরা চাই না, এটা ঘটুক। দুর্ভাগ্যবশত, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কিছু দেশ সন্ত্রাসী সংগঠনের গেস্ট হাউজের মতো। পিকেকে এবং ডিএইচকেপি-সির (বিপ্লবী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট) মতো গোষ্ঠীগুলো সুইডেনে অবস্থান করছে। নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের সংসদেও আছেন।’ এরদোগানের এই বক্তব্য পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন যে, তুর্কি মনোভাব ন্যাটোর সংহতিকে হ্রাস করছে এবং রাশিয়ার স্বার্থকে রক্ষা করছে। প্রকৃত সত্য হলো, তুরস্ক ন্যাটোর সংহতির অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক ও বড় সামরিক শক্তির জোগানদাতা। অনেকেই না পারছেন হজম করতে, না পারছেন বাদ দিতে। এরদোগান ছাড়াও আরো দুই বিশ্বনেতা এই অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। ক্রোয়েশীয় প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ ৩ মে বলেছেন, তিনি মাদ্রিদ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের প্রবেশে বাধা দেবেন, দুই দেশের সম্ভাব্য ন্যাটোর অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি শয়তানের মতো পক্ষে ভোট দেয়া প্রতিটি সংসদ সদস্যের পাপী আত্মাকে তাড়া করব।’
ইতালীয় ক্ষমতাসীন জোটের দল লেগার নেতা মাত্তেও সালভিনি এই দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদান ও ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মস্কো বারবার ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছে, যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি কেবল সঙ্ঘাতকে স্থায়ী করবে এবং একটি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করবে। মাত্তেও সালভিনি আরো বলেন, ‘এখন নয়। শান্তি অর্জনের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে এমন সব কিছুকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা উচিত।’ অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী জিয়ানকার্লো বলেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত দু’টি নতুন দেশের ন্যাটোতে যোগদান ‘অবশ্যই ইউক্রেনীয় দ্বন্দ্বের সময়কাল হ্রাস করতে সহায়তা করবে না।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগির মতে, ‘রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর সুইডেন ও ফিনল্যান্ড সুর পাল্টায়। কেননা বাঁশি আরেকজনের হাতে।’
ইতালির মাত্তেও সালভিনি ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর বিরুদ্ধে। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, এটি সঙ্ঘাত বন্ধ করতে সহায়তা করবে না। তিনি বলেন, ‘সঙ্ঘাতের শুরুতে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাঠানো এক জিনিস, এখন এটি করা অন্য জিনিস। শান্তি অর্জন করতে হবে এবং অস্ত্র পাঠিয়ে কোনো লাভ হবে না।’