

সৈয়দপুর, (নীলফামারী)
ছবির মানুষটি আব্দুল গফ্ফার (৬৭)। সেই ২৫ পয়সা থেকে পত্রিকা বিক্রি করতেন জেলার কোট-কাচারি থেকে শহরের অলিতে-গলিতে। এর জন্য বিশাল পরিচিতি তার। সকলে শ্রদ্ধা ভরেই ডাকেন গফ্ফার ভাই বলে। এভাবে পত্রিকা হাতে নিয়ে কেটে গেল জিবনের দির্ঘ ৪৫ বছর। তবে স্বচ্ছলতা আসেনি। সংসার চালাতে তাই মানব সভ্যতার মহাবির্যয়েও ঘরের বাহিরে বসে পেপার বিক্রি করছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন আমাদের দেখার কেউ নেই।
সৈয়দপুর শহরের পত্রিকা ব্যাবসায়ি খালিদ নিয়াজি নান্না জানান, মহান মুক্তি যুদ্ধের আগে থেকেই আমাদেও এই পত্রিকা ব্যবসা। গফ্ফার ভাই তখন থেকে আমাদের কাছে পেপার কিনে বিক্রি করতেন পথে-ঘাটে। এভাবে তিনি উপজেলা থেকে নীলফামারী জেলা শহরের বাড়িতে,অলিতে-গলিতে পেপার বিক্রি করতেন। সকলেই তাকে চিনে। এখন বের হতে না পারার কারনে কেউ কবর রাখে না। আমার দোকানে এসে একটু সহযোগিতা করে। এতে দিন মজুরি হিসেবে যা পান তা দিয়েই চলে তার সংসার।
বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবে কার্যত অচল সারাদেশ। কমে গেছে পত্রিকার বিকিকিনিও। এই বাস্তবতায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে হকারদের। আয় কমে এসেছে প্রায় শুন্যর কোঠায়। দুশ্চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে তাদের। পত্রিকার খবরের গুরুত্ব থাকলেও দেশের জনগনের হাতে হাতে এসব পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া হকারদের গুরুত্ব তেমন নেই। তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। এমন আক্ষেপ সৈয়দপুরের সকল হকারদের মধ্যে।
কথা হয় পত্রিকা এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মন্ডল পেপার হাউসের মালিক মজিদুল ইসলাম মন্ডলের সাথে। তিনি জানান, প্রতিদিন আড়াই হাজার কপি পত্রিকা বিক্রি হতো তার। বর্তমানে সে সংখ্যা ১২ শত নেমে এসেছে। বিক্রি কমে গেছে পঞ্চাশ শতাংশের কম। একই অবস্থা নিউজ কেবিনের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক খালেদ নিয়াজী নান্নার। তিনি জানান, প্রতিদিন দুই হাজার পত্রিকার স্থলে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার কপি। তারা জানান, ৩০ জন হকার সৈয়দপুর শহরে পেপার বিক্রি করতো। করোনা ভাইরাসের কারনে পত্রিকার গ্রহক সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হকাররা। পেপার বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেকেই হাতগুটিয়ে বাসায় বসে আছে। গ্রাহকের আশায় একটা বন্ধ দোকানের সামনে বসে পেপার বিক্রি করছেন গাফ্ফার নামের এই হকার। তিনি বলেন, ‘মানুষ পত্রিকায় খবর দেখে। কিন্তু আমরা পেপারওয়ালা তো, আমাদের খবর কেউ রাখে না। করোনাভাইরাস আসার পর থেকে কেউ বাসায় ঢুকতে দেয় না। আমরাও পত্রিকা দিতে পারি না।’ এ অবস্থায় এখন তিনবেলা খাবার দিতে পারছি না পরিজনদের মুখে। এমনি ভাবে চললে আর ২/৩ দিনের মধ্যে দিন কাটাতে হবে।
পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না, বিষয়টি আরো আগেভাগে গণমাধ্যমে প্রচার করা দরকার ছিল বলে মনে করেন সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি কাজী জাহিদ। তিনি বলেন, পত্রিকায় লেখা হয়েছে, পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। এই লেখাটা আরও আগে লেখা হলে এজেন্ট ও হকারদের এতো ক্ষতি হতো না।