পর্যটন কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

সিলেটের জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একসময় দেশে এই পর্যটন কেন্দ্রটি খুব জনপ্রিয় হলেও স্টোনক্রাশার মেশিনের বিকট শব্দ ও ধূলোবালু এবং ভাসমান দোকানিদের নানা প্রতারণার কারণে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে এবং শৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বলে জানিয়েছেন জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মো. রতন শেখ।

Manual1 Ad Code

মঙ্গলবার পেশাগত দায়িত্বপালনে গেলে জাফলং সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের পাশে বসে তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। মো: রতন শেখ জানান, এক বছর আগে ট্যুরিস্ট পুলিশে যোগদানের পর জাফলং পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় নানা অনিয়ম দেখতে পান। সেসময় থেকে তিনি পর্যটকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও প্রতারণার বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

Manual7 Ad Code

এক্ষেত্রে তিনি প্রথমেই নজর দেন ট্যুরিস্ট গাইড ও আলোকচিত্রীদের ওপর। কারণ তাদের চলাফেরায় তিনি কিছুটা বিচ্ছিন্নতাভাব লক্ষ্য করেন। এদের মধ্যে অনেক দুর্র্র্বৃত্ত ঢুকে পরায় পর্যটকরা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন। ফলে তিনি প্রায় ৪শ’ ট্যুরিস্ট গাইড ও আলোকচিত্রী নিয়ে বৈঠক করে জানতে পারেন এদের মধ্যে আড়াইজনই বহিরাগত। তিনি বকি দেড়শ জনের একটি তালিকা করে অন্যদের এলাকা ছাড়তে বলেন। তার মতে, এতে করে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ হচ্ছে। এজন্য তিনি ট্যুরিস্ট গাইড ও আলোকচিত্রীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেন।

Manual1 Ad Code

মো: রতন শেখ সংবাদ’কে বলেন, যেসব পর্যটক এখানে আসেন; তারা ফেরার সময় আত্বীয়-স্বজনের জন্য কিছু কেনাকাটা করেন। কিন্তু দেখা যায় এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। বেশিরভাগ দোকানিরা নকল চা পাতার প্যাকেট তৈরির পাশাপাশি ভারতীয় ল্যাবেল তৈরি করে তা বিভিন্ন সামগ্রীর প্যাকেটে লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি তার নজরে আসলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কয়েকবার অভিযান চালিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। পরে তাদের সাথে বৈঠক করে অনৈতিক পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। এজন্য সেখানে তিনি ব্যবসায়ী সমিতি গঠন করার পরিকল্পনা দেন। সেসব সমিতিকে পর্যটন কেন্দ্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে পর্যটকদের কাছে উন্নতমানের পণ্য বিক্রয়ের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সফলতাও আসছে। অস্বাস্থ্যকর খাবার যাতে কোনো রেস্টুরেন্টে বিক্রয় না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি করা হয়।

অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের রেস্টুরেন্টগুলোতে কোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন রাখা হয় না বলে জানান রতন শেখ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভাবে এই এলাকায় মাদক প্রবেশ করতো। তিনি যোগদানের পর এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি করায় তা অনেকটা কমে এসেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এই ইন্সপেক্টর বলেন, এসব শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মূহূর্তে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। জাফলংয়ের বেলায়ও একই অবস্থা হয়। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে ঈদ উল আযহার পরের দিন থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করে জাফলং। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় ৪ আগস্ট একজন নিখোঁজ হয়। অথচ এর আগেই তাদের উদ্দেশ্যে সচেতনামুলক মাইকিং করা হয়েছিল।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code