পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই শাহবাজ শরিফ

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী। তিনি পাকিস্তানের বাইরে খুব কম পরিচিত। তবে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে যতটা না, তারচেয়ে বেশি একজন প্রশাসক হিসেবে দেশটিতে তার খ্যাতি রয়েছে।

Manual2 Ad Code

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই ৭০ বছর বয়সী শাহবাজ। ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সংসদের বিরোধীদের নেতৃত্ব দেন।

Manual8 Ad Code

বিশ্লেষকরা বলছেন, শাহবাজ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেন। ২২০ মিলিয়ন জনসংখ্যার পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশটিতে ঐতিহ্যগতভাবে বৈদেশিক এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের জেনারেলরা তিনবার বেসামরিক সরকার পতনের জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে কোনো প্রধানমন্ত্রী পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

শাহবাজ পাকিস্তানের বিত্তশালী শরিফ পরিবারের সদস্য। তিনি সরাসরি, ‘কাজ করতে পারেন’ বলে প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বেইজিং-অর্থায়নকৃত প্রকল্পগুলোতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, শাহবাজ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। তাকে অন্যান্য বিরোধী দল এবং তার ভাইয়ের সঙ্গে একটি যৌথ এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নওয়াজ শরিফ গত দুই বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন।

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজ বেশ কয়েকটি উচ্চাভিলাষী অবকাঠামোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন।

শাহবাজ লাহোরে একটি ধনী শিল্প পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেশেই লেখাপড়া সম্পন্ন করে। তারপরে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হয় এবং এখন যৌথভাবে একটি পাকিস্তানি ইস্পাত কোম্পানির মালিক।

Manual5 Ad Code

এরপর শাহবাজ পাঞ্জাবের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর তিনি একটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে কারাবান্দি করা হয়। এরপর ২০০০ সালে তাকে সৌদি আরবে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

২০০৭ সালে নির্বাসন থেকে ফিরে এসে শাহবাজ আবার পাঞ্জাবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০১৭ সালে পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে সম্পদ গোপন করার অভিযোগে নওয়াজকে দোষী সাব্যস্ত করার পরে শাহবাজ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পার্টির প্রধান হয়ে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

দুই ভাইকে বহু দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শরীফ পরিবার ও সমর্থকরা বলছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে কোনো অভিযোগেই শাহবাজ শরিফকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

Manual3 Ad Code

সূত্র : আলজাজিরা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code