পাকিস্তানে বাড়ছে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক দিনগুলিতে পাকিস্তান জুড়ে ইন্টারনেটের গতি প্রায় স্থবির হয়ে গেছে, যা দেশটিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, দেশটির সরকার ইন্টারনেটকে আরও ভালভাবে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করতে গোপনে একটি নতুন প্রতিরোধক বা ফায়ারওয়াল ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।

পাকিস্তান সরকার এটি অস্বীকার করলেও দেশব্যাপী সফ্টওয়্যার সংস্থাগুলির প্রতিনিধিতকারী পাকিস্তান সফ্টওয়্যার হাউস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে জাতীয় ফায়ারওয়ালের গুরুতর পরিণতির নিন্দা করেছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এই বিঘেœর কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের ক্ষতি ঘটতে পারে।

Manual4 Ad Code

ডিজিটাল গবেষক এবং বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের ডিজিটাল জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষকে দ্বারা ইন্টারনেটের ধীর গতির সম্পর্কে সতর্ক বলেছেন, এটি দেশটিতে ইতিমধ্যে ভঙ্গুর গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিক স্বাধীনতাকে আরও হ্রাস করবে।
ইসলামাবাদ-ভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার নজরদারী সংস্থা ‘বোলো ভি উসামা খিলজি’-এর পরিচালক বলেছেন, নতুন ফায়ারওয়াল ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষকে মোবাইল অ্যাপের নির্দিষ্ট উপাদান যেমন ভয়েস নোট, ফটো এবং ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট বার্তা এবং ভয়েসকলের ব্যবহার করার সময় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে এবং ব্লক করতে সক্ষম করে তুলবে।

অধিকার গোষ্ঠীগুলি সতর্ক করেছে যে পাকিস্তানের নতুন ফায়রওয়াল ব্যবস্থা অবশেষে কর্তৃপক্ষকে ফোন বা কম্পিউটার থেকে অনলাইনে পোস্ট করা বার্তাগুলোর উৎস খুঁজে বের করতে এবং নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ব্লক করে দিতে সক্ষম হবে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খান এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে সরকারের নেতৃত্বে বৃহত্তর দমন-পীড়নের মধ্যে এই নতুন ইন্টারনেট নজরদারির অভিযোগটি এসেছে। বিখ্যাত ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা খান পাকিস্তানের জেনারেলদের রোষানলে পড়ে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তারপর একটি অত্যাশ্চযভার্বে রাজনীতিতে ঘুরে দাড়ান।

ইমরান খানের বিজয়ী প্রত্যাবর্তনকে বৃহদাংশে ইন্ধন যুগিয়েছে তার দলের দ্বারা ইন্টারনেটে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহার। ২০ কোটি ৮ ০ লাখ অনুসরণকারীর সাথে তিনি এই মুহুর্তে এক্স-এ সবচেয়ে জনপ্রিয় পাকিস্তানি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন।
পিটিআই অনুসারীদের প্রচারিত তথ্যচিত্রগুলো খানের ক্ষমতাচ্যুতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরেছে এবং নিন্দা জানিয়েছে। সেই ভাইরাল ভিডিওগুলি অনেক তরুণের জন্য একটি রাজনৈতিক জাগরণ জাগিয়ে তুলেছে যারা কখনো কোনো রাজনীতিবিদকে সরাসরি সামরিক বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করতে শোনেনি, যা খানের প্রতি সমর্থনের ভিত্তিকে প্রজ্বলিত করেছে।
ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানিরা কেবলমাত্র এক্স-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা তথাকথিত অপশক্তিদের পরাজিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মে থেকে তাদের বিবৃতি এবং সংবাদগুলোতে ‘ডিজিটাল সন্ত্রাস’ শব্দটি চালু করে, যাদেরকে দেশে অশান্তি বপন করার জন্য অভিযুক্ত সেনাবাহিনী।

Manual6 Ad Code

এই মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসীম মুনির সেই দাবিকে আরও জোড়ালো করে বিদেশী শক্তিগুলিকে ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। ১৪ আগস্ট কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে জেনারেল মুনির সতর্ক করে বলেন, ‘যারা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে চায় তারা সফল হবে না।’
এদিকে, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা কারাবন্দী ইমরান খানের তরুণ রাজনৈতিক সমর্থকদেরকে এই অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের সহযোগী সংগঠন এবং টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের মতো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির সাথে এক কাতারে ফেলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের এস. রাজারতœম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক আব্দুল বাসিত বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্ত করতে সন্ত্রাসবাদের তকমা ব্যবহার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনকে অস্ত্রে পরিণত করাটা জান্তা রাষ্ট্রগুলির আদর্শ। এটি নাগরিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণœ করে এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে প্রচারণার উপাদান দেয়, রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক লাভের জন্য সন্ত্রাসবাদের অপব্যবহারকারী হিসাবে চিত্রিত করে।’

Manual5 Ad Code

সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code