

সম্পাদকীয়: নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১১ হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ের এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-পায়রা সমুদ্রবন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, আটটি জাহাজ, সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল, ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং একটি সেতু।
বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নে, বিশেষ করে পায়রা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পায়রা বন্দর চালু করতে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। কারণ এর মাধ্যমে বন্দরের কানেকটিভি বাড়বে। চালু হলে বন্দরটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক করিডরের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হবে।
শুধু তাই নয়, বন্দরকে ঘিরে ওই অঞ্চলে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা, উন্নয়ন হবে অবকাঠামোর, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের এবং বিকাশ ঘটবে পর্যটনশিল্পের। এসবের ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আশপাশের নৌপথগুলোরও উন্নয়ন হবে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ওপর নির্মিত পায়রা সেতু চালু হয়েছে, যা বন্দরের পণ্য পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলে পায়রা বন্দরকে ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নিজেদের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন দেখছে।
দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন হয় ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর। মূলত উদ্বোধনের পর থেকেই সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ বন্দরে বহিঃনোঙ্গরে অপারেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রথমবারের মতো কনটেইনার জাহাজ নোঙরের মাধ্যমে বন্দরটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কনটেইনার টার্মিনাল, বাল্ক টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, মডার্ন সিটি, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ ১৯টি কম্পোনেন্টের কাজ চলমান রয়েছে।
২০২৩ সালের মধ্যে পায়রা বন্দরকে বিশ্বমানের একটি আধুনিক বন্দর এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতির সহায়ক শক্তি হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব কার্যক্রম চলছে। পায়রা বন্দরসংলগ্ন রামনা নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ বন্দরকে দেশের ভবিষ্যৎ সচ্ছলতার প্রতীক হিসাবে দেখা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু ও পায়রা সেতু চালু হওয়ায় বন্দরটির সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। আধুনিক এ বন্দরে পণ্য খালাসের যে সুবিধা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো বন্দরে নেই। এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য স্বল্প সময়ে ও সহজ পদ্ধতিতে খালাস করে দেশের যে কোনো স্থানে পরিবহণ করা সম্ভব হবে।