

পিরোজপুর :
পিরোজপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে আনা ৬০ বস্তা ভারতীয় শাড়ী, শাল ও থ্রীপিছ উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার ভোর ৪ টার দিকে বহনকৃত ট্রলারসহ ভারতীয় বিপুল পরিমান পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালানের সাথে জড়িত জামাল গোলদার (৫০), সেলিম হাওলাদার (৫৬), সুরুজ খলিফা (২৫) ও জুয়েল মিস্ত্রী-এ ৪জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পণ্যের মুল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান তার কার্যালয়ের আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংএ জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আযাদ হোসেন, গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক, সাব ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন জসিমসহ অন্যান্য ফোর্সসহ সদর উপজেলার হুলারহাট সংলগ্ন কঁচা নদীতে ভোরে একটি ট্রলারকে থামানোর সংকেত দিলে ট্রলারটি দ্রুত একটি শাখা খালে ঢুকে পড়ে এবং ট্রলারে থাকা লোকজন তীরে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কালে পুলিশ বাহিনী তাদের ধাওয়া করে চারজনকে আটক করে। পুলিশ এসময় ৭০ ফুট লম্বা একটি ষ্টীল বডির ট্রলার জব্দ করে।
এ সময় ট্রলারে থাকা ৬০ বস্তা ভারতীয় উন্নত মানের শাল, শাড়ী ও থ্রী পিছ জব্দ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশ সুপার জানান। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান আরো জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে চোরাকারবারীরা ভারতীয় এসব পোষাক চোরাই পথে এনে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য মংলা- হুলারহাট-ঢাকা নৌ-পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে আসছে।
আটককৃত জামাল গোলদার বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার নাজেম গোলদারের ছেলে, সেলিম হাওলাদার বরিশাল জেলার চরমোনাই এলাকার মৃত ইন্তেজ আলী হাওলদারের ছেলে, সুরুজ খলিফা একই এলাকার কালাম খলিফার ছেলে, এবং জুয়েল মিস্ত্রী ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার পরাজগঞ্জ এলাকার খোকন মিস্ত্রীর ছেলে।