

ডেস্ক রিপোর্ট: একজন প্রকৃত মুসলমান সে-ই, যার হাত ও মুখ থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।’ কতই না চমৎকার ও সম্প্রীতির শিক্ষা আমাদের প্রিয় নবি ও শ্রেষ্ঠ নবি (সা.)-এর। আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে যখন মহানবি (সা.) নবি হওয়ার ঘোষণা করলেন এবং আরববাসীকে একমাত্র আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন, তখন তাঁর (সা.) কিছু আত্মীয়, গরিব ও ক্রীতদাসসহ তাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ছিলেন, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন।
যখন তাদের প্রচার বৃদ্ধি পেল, তখন মক্কার কাফেরদের নিষ্ঠুরতা এমন মাত্রায় বাড়ল যে, তারা বিশ্বাসীদের আরবের তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে দিয়ে তাদের বুকের ওপর গরম পাথর চাপিয়ে সেঁক দিল, বেত্রাঘাতে জর্জরিত করা হলো তাদের, হাত-পা উটের সঙ্গে বেঁধে উটকে বিপরীত দিকে চালিয়ে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করা হলো।
মহানবি (সা.) এবং তার প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত লোকদের একটি পাহাড়ের উপত্যকায় নির্বাসিত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য অথবা পানীয় সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এতে নবি করিম (সা.)-এর সঙ্গীরা বলতে লাগলেন, তারা তো এমনিতেই মারা যাবেন, তবে কেন যুদ্ধ করে পাহাড়ের নিচে নামবেন না? মূলত এসব মুসলমানও তো ওইসব লোকের মধ্য থেকেই এসেছিল যারা মামুলি কারণে পরস্পরকে হত্যা করত এবং রক্তপাত ঘটাত কিন্তু যখন কেউ বলত ‘আমাদের যুদ্ধ করার অনুমতি দিন’ তখন মহানবি (সা.) বলতেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে যুদ্ধ করার আদেশ দেননি।
অবশেষে মহানবি (সা.) নির্যাতিত কিছু লোককে হিজরত করার অনুমতি দান করেন এবং এর কিছু দিন পর তিনি নিজে মদিনায় হিজরত করেন। সে সময় মদিনা শহরের কিছু অধিবাসীও মুসলমান হয়েছিল। তাঁর (সা.) আগমনে মদিনায় প্রচুর সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেন।