

ডেস্ক রিপোর্ট:আমি সিলেট-৪ আসনের এমপি হলেও মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত। যুক্তরাষ্ট্র সফররত শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি-কে সংবর্ধিত করেছে তার নির্বাচনী এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামাজিক সংগঠন ফাউন্ডেশন অফ গ্রেটার জৈন্তা, নিউইয়র্ক। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমি সিলেট-৪ আসনের এমপি হলেও মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত। ন্যায় আর সততার সাথে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেত চাই এবং সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, আমি এমপি, মন্ত্রী হতে চাইনি, দল আর দলের চেয়ারম্যান চেয়েছেন, এলাকার মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে আমি নির্বাচিত হয়েছি। এজন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপর্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো।গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায়, জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে এই মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ৭ দফা দাবিনামা একটি স্মরকলিপি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুন্নুন চৌধুরী, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা যাকারিয়া মাহমুদ।পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জামীল আনসারী। তেলাওয়াত ও দুআ পরিচালনা করেন আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম মাওলানা রফিক আহমদ রেফাহী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি মুহাম্মদ বুরহান উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র উপদেষ্টা গওহর চৌধুরী কিনু, গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আব্দুর রব, ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি নূরে আলম জিকু, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী আজমল বক্স সাদেক, ফ্লোরিডা বিএনপি নেতা হাজী আব্দুর রকীব, নিউজার্সী ষ্টেট বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নুল হক প্রমুখ।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ এর গোয়াইন ঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ মূলত: অবহেলিত জনপথ, শ্রমিক নির্ভর, তবে পর্যটন এলাকা হিসেবে সম্ভাবনাময়। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় রাস্তা-ঘাটের অভাবে অনেক এলাকায় যেতে পারিনি। তাই এলকার সব সমস্যা আমি অবগত এবং এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়াও সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের ১৯জন এমপি মিলে আমরা আলোচনা করছি।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ সারা দেশের উন্নয়নে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ছিল জনগণের দায়িত্ব, এখন সেই দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের। তারাই জনগণের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবেন এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে সে অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণ অবগত হতে পারবেন।বিদেশে কর্মী প্রেরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বিদেশগামী কর্মীদের নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। সেই সিন্ডিকেড আমরা চিহ্নিত করেছি। ইতিমধ্যেই দুজনকে গেফেতার করা হয়েছে। এখন থেকে শুধু টিকিটের খরচে কর্মীরা বিদেশ যেতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিদেশে লোক পাঠানোর আগে তাদেরকে ট্রেইন আপের উপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, যেকোন বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে হয়রানি ও কাটাছেঁড়া এবং ইমিগ্রেশনে অহেতুক ভোগান্তি বন্ধে ইতোমধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে যেভাবে সিটিবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করেছি, সেই আলোকেই সিলেট-৪ আসনের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। আমিও এলাকার জনগণের প্রত্যাা পূরনে সচেষ্ট থাকবো। তবে তিনি তার দায়িত্বের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় এলাকার ছোট-খাটো সমস্যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পঞ্চায়াতের মাধ্যমে সমাধানের আহবান জানিয়ে বলেন, সব সমস্যার ব্যাপারে আমাকে চাইলে আমি অন্য কাজ করবো কিভাবে। তাই সবাইকে মিলেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচে বিদেশে গিয়ে অনেকেই কাজ না পেয়ে বিপদে পড়ছেন। এতে প্রবাসীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।জাপানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম খরচে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়া তিনি বলেন, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাত উন্নয়নের জন্যও বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি বিএনপি (উত্তর)-এর সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম এ বাতিন, কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর খান হারুন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার, কুলাউড়া-বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি সৈয়দ ইলিয়াস খছরু, সোসাইটির কার্যকরী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আব্দুর রব, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি যোসেফ চৌধুরী, সাবেক আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ মনির ও মাওলানা আবুল কালাম। অতিথিদের মধ্যে সময় স্বল্পতার জন্য অনেকেই বক্তব্য না দিয়ে তাদের সময়টুকু সংবর্ধিত মন্ত্রীকে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।