বঙ্গবন্ধু পরিবারের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুন, কর্মীদের উদ্দেশে কাদের

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমার অবাক লাগে কিছু কিছু মানুষ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। শুধু টাকা আর টাকা। সম্পদ আর সম্পদ। দেশে সম্পদ, বিদেশে সম্পদ। এদের এ বেপরোয়া লোভ লালসার যেন কোনো শেষ নেই।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

Manual4 Ad Code

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা অনেকেই বলেন মূল্যায়ন হয়নি, কিছু পায়নি। এ ধরনের হাহাকার শুনতে পায়। একটু বঙ্গবন্ধু পরিবারের দিকে চেয়ে দেখুন। বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন কীভাবে এই পরিবার চলেছে। কীভাবে বেগম মুজিব একটা পরিবারকে আগলে ধরেছেন। সেই ইতিহাস পড়ুন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। সততার রাজনীতির বিরল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এই থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছেলে-মেয়েদের দিয়ে বিকল্প কোনো পাওয়ার হাউস বা হাওয়া ভবন তৈরি করেননি। তিনি তাদের জ্ঞানে গরিমায়, মেধায়-পড়াশোনায় সমৃদ্ধ করেছেন।

কাদের বলেন, আওযামী লীগের নেতাকর্মীদের আমি বলবো হাহাকার করছেন কেন? বাংলাদেশে এখন উপার্জনে, বেঁচে থাকার অনেক পথ, অনেক দুয়ার শেখ হাসিনা খুলে দিয়েছেন। টাকা-পয়সার দিকে চোখ দিয়ে লাভ নেই। বঙ্গবন্ধু পরিবারের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুন। নেত্রীর দিকে তাকান। টাকা পয়সা সম্পদের দিকে তাকাবেন না।

Manual2 Ad Code

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মাঝে মধ্যে ভাবি জীবন উপভোগের জন্য এদের আর কত টাকা দরকার? কত সম্পদের দরকার।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, রাজনীতি করলে আদর্শের করেন। বেঁচে থাকার জন্য টাকা ও সম্পদ বানানোর প্রয়োজন নেই। দুনিয়া থেকে চলে গেলে এগুলো কে খাবে? এত টাকা এত সম্পদের কি প্রয়োজন। মিনিমাম যেটুকু প্রয়োজন স্বচ্ছলতার জন্য, সেইটুকু অর্জন করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার সততা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, টাকা পয়সার প্রতি যার লোভ নেই, বাংলাদেশের বহু গরীব মানুষ শেখ হাসিনার সাহায্যে চলে। বহু অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি বলেন, একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতার খোয়াব দেখছে। কথায় কথায় আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। সরকারকে হটানোর দিবা স্বপ্ন দেখছে। আগামী নির্বাচন আসছে। এখন শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা। আবারও শুরু হয়েছে সেই খেলা। বিবৃতি ও বক্তব্য দেখছি। ১৩টা বছর ধরে বহু চেষ্টা করলেন সরকার হটাতে।

বিএনপি আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য বিভিন্ন দলকে ডাক দিয়েছেন। গতবারও ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটা ঐক্য করেছিলেন। সেই ঐক্যের ফলাফলও এই দেশের মানুষ দেখেছে।

বিএনপিকে প্রশ্ন করতে চায় এবং বলতে চায়। আগামী নির্বাচনে আপনাদের নেতা কে? আন্দোলনে আপনাদের নেতা কে? কাকে ঘিরে আন্দোলন করবেন? কাকে ঘিরে সরকার গঠন করবেন? আমরা বলে দিচ্ছি আমাদের নেতা হচ্ছেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনারা (বিএনপি) দেখান। একজনকে দেখাবেন। পলাতক, দণ্ডিত আসামি। তিনি আপনাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এটা কি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে? মানুষ এত বোকা নন। মানুষ জানে বিএনপিকে ভোট দিয়ে লাভ নেই।

তিনি বলেন, আগামী বছর যখন একে একে মেগা প্রকল্পগুলো উদ্বোধন হবে, তখন বিএনপি চোখে সর্ষে ফুল দেখবে। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি বড় জটিল। মানুষ এখন উন্নয়ন চায়। মানুষ এখন চরিত্রবান লোককে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি হলেন একমাত্র শেখ হাসিনা।

Manual1 Ad Code

কাদের বলেন, এই দেশের রাজনীতিতে পঁচাত্তর পরবর্তিকালের সবচেয়ে ঝুঁকিময় জীবন, যে রাজনৈতিকের তার নাম শেখ হাসিনা। বারে বারে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শিকার তিনি হয়েছেন। তার জীবনের ওপর বারে বারে আঘাত করা হয়েছিল। অন্তত ২০ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এখনও ষড়যন্ত্রের বুলেট তার পিছু ছাড়েনি। কিন্তু শেখ হাসিনা ভয়কে জয় করেছেন। পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো ভয়কে জয় করে, স্মিতহাস্যে সব ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন অকুতোভয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মির্জা আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফরিদুন্নাহার লাইলীর পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code