বন্ধ হোক নারী নির্যাতন

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual6 Ad Code

121211

মানুষের বিবেকবর্জিত ঘটনা দিয়েই শুরু করছি। পাঁচ বছরের মাসুম শিশু বাচ্চাকে ধর্ষন করেছে বিবেকবর্জিত পয়তাল্লিশোর্ধ জনৈক ব্যক্তি ও তার সহযোগী। ঘটনাটি ঘটেছিলো দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্বতীপুরে। শিশুটিকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তাকে দেখে আতকে উঠেন চিকিৎসক নিজেই। শিশুটির গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও ছিলো। অচেতন মৃত্যু পদযাত্রী অবুঝ শিশু যার উরুতে ছিলো সিগারেটের ছ্যাকা, মাথায় ক্ষত সেই শিশুটিকে কিভাবে চিকিৎসা করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না স্বয়ং চিকিৎসকই। মৃত্যুপদযাত্রী শিশুটির বেঁেচ থাকাটাই আমার কাছে অলৌকিকতা মনে হয়েছে। মিরপুরের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দুই যমজ বোন বখাটেদের প্রহারে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের সহপাঠী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সরব হয়ে উঠেছিলো স্থানীয় এলাকা। কলেজ প্রাঙ্গনে প্রকাশ্যে কুপানো হয়েছে নার্গিস আক্তার খাদিজাকে, অপরদিকে মুন্সগিঞ্জরে সরিাজদখিানে দশম শ্রণেরি এক ছাত্রীকে কােপানাে হয়ছেে তার বাড়রি ঘরে ঢুক।ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে এখনো বেঁেচ আছেন অচেতন নার্গিস আক্তার খাদিজা। কিন্তু অচেতন হয়েও বাচঁতে পারলেন না মিরপুর সাইক পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী আফসানা ফেরদৌস। ঢাকার উইলস লিটলফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টমশ্রেণীর শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিসাকে স্কুলের সামনেই ছুরিকাঘাত করে যে যুবক তার দোকানেই পোষাক বানিয়েছিলো রিসা। ঠিক তিন দিন পরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিসার মৃত্যু হয়। অবশ্য পরে ওই খুনিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন এক মাংস বিক্রেতা। প্রাণবন্ত কিশোরিকে যে কেউ-ই চাইলেই বিরক্ত এবং প্রেম নিবেদন করতে পারেন। কিন্তু প্রতিবাদ বা প্রত্যাখান করলেই খুনও হতে পারেন। সারা দেশের নিরাপত্তার প্রতীক আমাদের সেনাবাহিনী। সেই নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরেই পাওয়া যায় সোহাগী জাহান তনুর মৃত দেহ। লোমহর্ষক তনু হত্যাকান্ডের পর সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিলো। মনে হয়েছিলো অপরাধীরা হয়তো শাস্তির আওতায় আসবেন। কিন্তু তা আর হল কই। প্রায় ২ লাখ নারীর নির্যাতন এবং প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলায় আজো কি নারীরা স্বাধীন হতে পারলেন…? এ প্রশ্ন রয়েই গলো। সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নারী নির্যাতন হ্রাস পাওয়া তো দূরের কথা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্টিত প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সংসদ প্রধান সহ গুরুত্বপূর্ণ আসনে নারী। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীতে অবদান রাখছেন নারীরা। তাতে কি কমছে নারী নির্যাতন?? নারীদের কে বাদ দিয়ে যেমন দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা অসম্ভব তেমনি বর্তমান সময়ে দেশ উন্নয়নে নারী নেত্রীদের অবদান অপরিসীম। দেশ শাসনে যারা বছরের পর বছর পার করছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন হলো নারীদের নিরাপত্তায় কি করছেন আপনারা? কোনো দূর্ঘটনার পর দেয়া আশ^াসেই কি তা সীমাবদ্ধ থাকবে? তদন্ত হবে, গ্রেফতার হবে, বিচার হবে। এসব আশ^াসে আর জনগন আশ^স্ত হতে চান না। তারা কার্যকরী পদক্ষেপ চান। তারা প্রকৃত স্বাধীনতা চান। কত মেয়ের প্রাণ গেছে অকালে, কত মেয়ের শিক্ষা জীবন শেষ হয়েছে বখাটেদের অত্যাচারে। তার হিসেব-ই বা তে রাখে। তনুর মায়ের চোখে আজো অজোরে বয়ে যাওয়া জল কে মুছে দিবে। কি দায়িত্ব নেবে পয়তাল্লিশোর্ধ ব্যক্তির হাতে ধর্ষিত মাসুম শিশুটির? মৃত্যুর কাছকাছি গিয়েও বেঁচে যাওয়া খাদিজার পরিবারের নিরাপত্তা কে দিবে? এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যায়। আমরা আর নারী নির্যাতন দেখতে চাইনা। আর যেন আমার সোনার বাংলায় কোনো নারী নির্যাতন না হয়। দেশ শাসনে যারা অগ্রনী ভূমিকা রাখছেন তাদের নিকট আমাদের আকুল আবেদন নারী ও শিশু নির্যাতনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

Manual7 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

লেখক
ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন
নিউইয়র্ক,যুক্তরাষ্ট্র ।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code