

People wade through flood waters in Feni on August 22, 2024. Floods triggered by torrential rains have swamped a swath of low-lying Bangladesh, disaster officials said on August 22, adding to the new government's challenges after weeks of political turmoil. (Photo by Zakir Hossain Chowdhury / AFP)
সম্পাদকীয়: দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ আট জেলায় কয়েক লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ফেনীর তিন উপজেলার শতাধিক গ্রামের লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে সড়ক-ঘরবাড়ি। আটকে পড়া পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দাদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ড। ইতোমধ্যে ফেনী পৌর শহরও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
সেই সঙ্গে সদর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলমান বন্যায় দেশের আট জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখের বেশি। টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। ফেনী ও কুমিল্লায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলরত আন্তঃনগরসহ সব ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস এবং সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ছাড়লেও বন্যার কারণে ট্রেনগুলো গন্তব্যে যেতে পারেনি। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত দেশে বন্যায় কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকার পানিবন্দি মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে হঠাৎ অতিবৃষ্টি এবং উজানের ঢলে দেশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য বারের মতো এবারও বন্যায় ৪০টির বেশি জেলা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। তথ্যের অভাবে বন্যার আগাম প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। দেশে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত বেড়েছে।