বিজেপির বিরুদ্ধে অনাস্থায় বিরোধীরা এককাট্টা

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual2 Ad Code

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সাবেক জোটসঙ্গী তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে, এতে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেসসহ বেশির ভাগ বিরোধী দল। আজ শুক্রবার যদিও লোকসভায় এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি, আগামী সোমবার লোকসভার পরবর্তী অধিবেশনে এ প্রস্তাব উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় চার বছর হয়ে গেল বিজেপি সরকারের। এর মধ্যে একটিবারের জন্যও অনাস্থা প্রস্তাব ওঠেনি এ সরকারের বিরুদ্ধে।

Manual6 Ad Code

এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, বিরোধীদের সম্মিলিত অনাস্থায় হয়তো বিজেপি সরকারও পড়ে যাবে না। দুদিন আগে লোকসভার তিন আসনের উপনির্বাচনে পরাজয় এবং আজ জোট শরিক টিডিপির সঙ্গ ছাড়ার ঘোষণায় বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়ল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সকালে এনডিএ সরকারের ওপর থেকে তাদের সমর্থনের প্রত্যাহারের কথা জানায় টিডিপি। তারা এ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্তও নেয়। তাদের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায় বিরোধী দলগুলো।
অন্ধ্রকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে টিডিপির বিরোধ শুরু হয়। টিডিপি এখন অন্ধ্রে ক্ষমতাসীন। লোকসভায় এ দলটির ১৬ সদস্য আছে। বিশেষ মর্যাদা নিয়ে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী ও টিডিপি-প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু প্রকাশ্যে তাঁর ক্ষোভ জানান। তিনি রাজ্যের বিষয়ে আলোচনার জন্য ২৯ বার দিল্লিতে গিয়েছিলেন বলেও উষ্মা প্রকাশ করেন। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটল বিজেপির সঙ্গ ছাড়া ও অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে।

আজ ভারতের লোকসভার অধিবেশনে টিডিপির ওই প্রস্তাব ও পাঞ্জাবের ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে শোরগোল করে বিরোধীরা।

Manual8 Ad Code

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, আজ লোকসভার অধিবেশনে শেষতক অনাস্থা প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। টিডিপির এমপি থোটা নরমসিনহাম লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে আগামী সোমবার পরবর্তী অধিবেশনে এ প্রস্তাব গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিআই (এম) এআইএমআইএম।
বিরোধী দল কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে টিডিপির অনাস্থায় তাঁদের সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্ধ্রের বিশেষ মর্যাদার প্রতি সমর্থন জানাই। আমরা চাই এ রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাক।’

Manual4 Ad Code

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এনডিএ ছাড়ার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। দেশকে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। আমি বিরোধী সব দলকে আহ্বান জানাই, দেশকে অর্থনৈতিক দৈন্য দশা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে তারা একত্র হবেন।’

ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম) টিডিপির অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে। দলটির নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ক্ষমার অযোগ্য।
দুই মনোনীতসহ ভারতের লোকসভায় বিজেপির ২৭৫টি আসন আছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
এন্টারটেইনমেন্টটপ নিউজ এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
‘বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের গন্তব্য বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে কানাডার এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও কানাডার আলবার্টা প্রদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে আরও শক্তিশালী করাতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরির এমপি জাসরাজ সিং হালান, ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. আনিস হক, মাউন্ট রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসেট স্কুল অব বিজনেসের সহকারী অধ্যাপক ড. তাসফিন হোসেন। এ ছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা চিকিৎসক আইনজীবী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু। সেমিনারের শুরুতেই বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের চিত্র বিনিয়োগ ইত্যাদির ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র পরিবেশিত হয়। এর পরই কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধি দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সম্পর্কে এবং বিগত ১১ বছরের চলমান বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র সভায় উপস্থিত সবার কাছে তুলে ধরেন। এ ছাড়া সেমিনারে এমপি জাসরাজ সিং হালান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আলবার্টা প্রদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) মো. শাকিল মাহমুদ। সেমিনারে অধ্যাপক ড. আনিস হক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডাতে প্রকৌশল বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। ড. তাসফিন হোসেন তার উপস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, সেমিনারে মূলত আলবার্টা প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে তা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা প্রদেশ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়। বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের জন্য যেসব প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। খনিজসম্পদ, জ্বালানি ও গ্যাস, ভৌত অবকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে আলবার্টা প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় আলোচনায় অগ্রাধিকার পায়। এ ছাড়া আলোচনায় আগত অতিথিদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব প্রদানের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
৬ years ago
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code