

মোঃ আবু সাঈদ, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
শীত আসন্ন। মাঠে মাঠে এখন শীতকালিন সবজি আবাদ। খাদ্য শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা জুড়ে চলছে শীতকালিন শাক- সবজির চাষাবাদ। ক্ষেতে নতুন ফসল লাগানো, পরিচর্যার ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত কৃষক। আবার আগাম জাতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। কিছু এলাকায় জমি থেকে সবজি তুলে বাজারে বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত কৃষক। কৃষকরা বলছেন, শীতকালিন সবজি চাষে বাড়তি পরিচর্যায় ব্যয় বেশি এবার। তাই বাজার দর ভালো পাওয়া গেলে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন চাষিরা।
আশ্বিনের শেষ ও কার্তিকের শুরুতে সকালের হালকা কুয়াশা মনে করিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে উপজেলার সর্বত্র শুরু হয়েছে শীতকালিন সবজি চাষ আবাদ। শীতের শুরুতেই আগাম ফসল উৎপাদনে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। অনুকূল আবহাওয়ায় আর সেই সাথে উৎপাদিত সবজির বাজার দর ভালো পেলে শীতকালিন ফসল আবাদে লাভবান হবেন চাষীরা।
শুধু নিজেদের চাহিদাই নয়, বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। সবুজে সবুজে ভরে উঠছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি শিম গাছ। শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, করলা, পটল, পালং ও লালশাকসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজির চারা। তাই মাঠে মাঠে এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত কৃষকরা।
কাক ডাকা ভোরে কোদাল, নিড়ানি, বালতি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন কৃষকরা। জমিতে নেমে পড়ছেন সবজি পরিচর্যায়। বিকেল অবধি মাঠে থেকে চারার গোড়ায় পানি ঢেলে সবাই বাড়ি ফিরছেন।তাঁদের কেউ দাঁড়িয়ে কোদাল চালাচ্ছেন। অনেকেই গাছের গোড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন নিড়ানি। কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। কেউ আবার নেতিয়ে পড়া চারার স্থলে সতেজ চারা প্রতিস্থাপন করছেন। এভাবে শীতকালীন সবজি নিয়ে চলছে কৃষকের কর্মযজ্ঞ। বেড়েই চলছে কৃষকদের কাজের চাপ। ধান চাষে তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না অনেক কৃষক। কোনো ভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না তাঁরা। তাই রকমারি সবজি চাষে ঝুঁঁকে পড়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক।
বিরামপুর পৌর শহরের দাঁশআড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক ভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবায় ক্রটি করা যাবে না। কিন্তু, রোগবালাই দমনে সবজিতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়। এতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কম-বেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব নয়। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই এসব কৃষক লাভজনক মনে করছেন।
ভবানীপুর (মুন্সীপাড়া) গ্রামের সবজি চাষী আফজাল হোসেন বলেন, লালশাক, পুইশাক, পালংশাক, ঢেঁরশ, মুলা, বেগুন ফুলকপি, বাঁধা কপি, লাউ, শিম, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি আবাদে ব্যস্ত চাষীরা। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আগাম শীতকালিন সবজির বাজার দর ভালো পাওয়ায় এ আবাদে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি। এরিমধ্যে যে সব উৎপাদিত শীতকালিন সবজি বাজারে আসছে তার ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কথা হয় সারামপুর গ্রামের সবজি চাষী ও বিক্রেতা তরিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। বেগুনের ফলন ভালোই হয়েছে। প্রতি মণ বেগুন এক হাজার থেকে এক হাজার পঞ্চাশ টাকা দামে বিক্রি করছি। আর খুচরা বিক্রেতারা তা ২৮ টাকা ৩০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করছে। আগাম শীতকালিন সবজির বাজার দর ভালো পাওয়ায় এ আবাদে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি। ইতিমধ্যে যে সব শীতকালিন সবজি বাজারে আসছে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তাঁরা।
এবিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষি বিদ নিকছন চন্দ্র পাল জানান, শীতকালিন সবজি চাষের উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত আসায় এ আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার শীতকালিন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। শীতকালিন সবজি চাষ পদ্ধতি, ভালো জাত ও রোগ বালাইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
তিনি আরো জানান, উৎপাদিত সবজি জেলার সবজি চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি ঢাকাসহ দেশের অন্য জেলাতে সরবরাহ করা হবে। কৃষি বিভাগের লোকজনের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ায় কৃষকদের মুনাফাও বেড়েছে কয়েকগুণ। আমরা তাঁদেরকে সর্বাত্তক সহযোগীতাও করবো।