

বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানী ঢাকার চারপাশে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ডাকাত চক্র। টার্গেট প্রবাসী ও ধনী ব্যক্তিদের বসতবাড়ি। একের পর এক ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতি করতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে ডাকাত দলের সদস্যরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে সোনা-গয়না ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও কোনও ঘটনায় দুই-একজন ডাকাত সদস্যকে ধরতে পারলেও উদ্ধার করতে পারছে না লুট করা সামগ্রী। ডাকাত দল ঠেকাতে রীতিমতো পাহারাদারও বসানো হয়েছে অনেক এলাকায়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আগের চাইতে ডাকাতি কিছুটা বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর। ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ডাকাতি করার জিনিসপত্রও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও ডাকাত চক্রের সদস্যদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় অর্ধশত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কেরানীগঞ্জেই এক মাসে অন্তত আটটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্যদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারলেও ডাকাতি করা কোনও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গত ২৫ এপ্রিল মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জের ঘোষকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার বাড়িতে একদল ডাকাত সদস্য হানা দেয়। ডাকাতির কাজে বাঁধা দেওয়ায় ডাকাত সদস্যদের গুলিতে অন্তত ১০ জন আহত হন। ডাকাতদের আঘাতে এক স্কুলছাত্র দীর্ঘদিন অচেতন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। সম্প্রতি তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়া হলেও এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।