

সম্পাদকীয়: চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাস বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রপাতি বা ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহার না হওয়া সত্ত্বেও উত্তোলন (হোয়েস্টিং) চার্জের নামে টনপ্রতি অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দিতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করার বিষয়টি অনভিপ্রেত; একইসঙ্গে অবিবেচনাপ্রসূত ও বেআইনিও বটে! সাধারণত একেকটি কনটেইনারে ২৫ টনের ওপরে পণ্য থাকে। সে হিসাবে প্রতি কনটেইনারের জন্য অতিরিক্ত সাড়ে সাত হাজার টাকা ও ১০০ টন পণ্যের জন্য ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন চার্জ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানি পণ্য লোড-আনলোড, খালাস, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা কারণে ভিন্ন ভিন্ন নামে চার্জ আদায় করে থাকেন। স্টোর রেন্ট, হোয়েস্টিং চার্জ, শিফট অন চার্জসহ বিভিন্ন নামে ট্যারিফভুক্ত এসব চার্জ পরিশোধও করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ট্যারিফভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ক্ষমতা বলে সার্কুলার দিয়ে বেআইনিভাবে বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে উত্তোলন চার্জ আদায় করছে। বস্তুত এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই গরু দুবার জবাই করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয়। তাছাড়া এভাবে বাড়তি চার্জ দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
হতবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, নিয়ম না মেনে বাড়তি চার্জ আরোপের প্রেক্ষিতে আমদানিকারকরা প্রতিবাদমুখর হলে ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল প্রদত্ত এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন-এফসিএল কনটেইনারে কোনো পণ্য ‘প্যালেট’ আকারে আনা হলেও যদি তা ম্যানুয়ালি হ্যান্ডেল করে ডেলিভারি নেওয়া হয় এবং এতে যদি বন্দরের কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে ‘হোয়েস্টিং’ চার্জ আরোপ হবে না। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নিজেদের দেওয়া চিঠি নিজেরাই অগ্রাহ্য করছেন, যা অনুচিত। দুঃখজনক হলো, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’র কথা বলছেন, ব্যবসায়ের ব্যয় বা খরচ কমাতে বলছেন, সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষ একই পণ্যের জন্য চার্জের নাম বদল করে দুবার টাকা আদায় করছেন। বন্দরের কোনো যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে না; অথচ এ বাবদ চার্জ দিতে হবে-এ কেমন কথা!