

তৌফিকুর রহমান হাবিব সিলেট: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ১৫ দিনে গড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নবম কার্যদিবসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয়তাবাদী সাদা দল সমর্থিত শিক্ষক, ছাত্রদল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখা হয়।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। ওই দিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও টার্ম পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভবনটি তালাবদ্ধ রাখা হয়।
সিকৃবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আন্দোলনের নবম কার্যদিবস। এটি এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ধাপে ধাপে কর্মসূচির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গতকাল থেকে প্রশাসনিক ভবন লকডাউন করা হয়েছে। আজও তা অব্যাহত রয়েছে। উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমাদের আন্দোলন চলবে।’
তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও টার্ম পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সাদা দলের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ বা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন আরও কঠোর করার বিষয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন। এর অংশ হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করার কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। অধ্যাপক সিদ্দিকুল ইসলামের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকাজ ও মালামাল কেনাকাটায় (প্রকিউরমেন্ট) আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপাচার্যের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
অধ্যাপক সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে অডিটের মাধ্যমে যেসব অভিযোগ উঠে আসছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার দাবি তাঁদের।
তবে আন্দোলনকারীদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তাঁর দাবি, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তুলছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগ্য এবং নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন সাদা দল–সমর্থিত শিক্ষক, ছাত্রদল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবস্থান, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তাঁরা। সোমবার থেকে প্রশাসনিক ভবন লকডাউন কর্মসূচিও শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।