ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দেশের এখন নীরব ঘাতক

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশজুড়েই অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত খাবার। যা দেশের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। হুমকিতে দেশের জনস্বাস্থ্য। নীরব ঘাতক হয়ে উঠেছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার। বর্তমানে এদেশে নিশ্চিতভাবে ভেজালমুক্ত কোনো খাবার পাওয়া যাবে না। চাল, ডাল, আটা, মসলা, কলা, দুধ, মিষ্টি-সবকিছুতেই ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে। আর বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে প্রায় সব ধরনের ফল পাকানো হচ্ছে। কিছু খাবারে মেশানো হচ্ছে কাপড়ের রং। এমনকি শিশুখাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও মেশানো হচ্ছে ভেজাল উপাদান। তাছাড়া মাঠপর্যায়ের কৃষিপণ্যেও বিষাক্ত রাসায়নিক দেয়া হচ্ছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে মানবদেহ। বাড়ছে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভেজাল ও বিষমুক্ত খাবার নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর তদারকির অভাব ও উদাসীনতায় খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।  বরং দেশজুড়েই ভেজাল আর রাসায়নিক খাদ্যপণ্যের ছড়াছড়ি। খাবারে ভেজাল মেশানো অসৎ ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মানুষ সচেতন না হলে শুধু কর্তৃপক্ষের চেষ্টায় নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা দুরূহ। যদিও খাদ্যে বিষ ও ভেজাল রোধে সরকার ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ প্রণয়ন করেছে। এমনকি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনেও খাদ্যে ভেজাল দেওয়া ও বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু ওসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় সাধারণ জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না।

Manual2 Ad Code

সূত্র জানায়, খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও মাঝে মাঝেলোক দেখানো অভিযানে সরকারের কোনো কোনো সংস্থা তোড়জোড় দেখায়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির হেরফের নেই। বরং দিন দিন বাড়ছে। গত বছর হাইকোর্টের নির্দেশে লবণ, হলুদ, গুঁড়া মরিচ, কারি পাউডার, সরিষার তেল, বোতলজাত পানি, মাখন, আটা, ময়দা, নুডলস, বিস্কুটের ৪০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে বিএসটিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৬টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ৭৪টি পণ্যই নিম্নমানের। আদালত ওসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং সংশি­ষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। তাছাড়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক গবেষণায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো তথ্য মিলেছে। দেখা গেছে সারা দেশ থেকে সংগৃহীত খাদ্য নমুনার ৫২ শতাংশ দূষিত। প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে ৮২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, গড়ে ৪০ শতাংশ খাদ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি নিষিদ্ধ ডিডিটি ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান মিলেছে।  ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজির নমুনায় ধরা পড়ে বিভিন্ন কীটনাশকের উপস্থিতি।

Manual4 Ad Code

চালের ১৩টি নমুনায় পাওয়া গেছে অতিমাত্রায় বিষাক্ত আর্সেনিক, পাঁচটিতে ক্রোমিয়াম। হলুদের গুঁড়ার ৩০টি নমুনায় সিসা ও অন্যান্য ভারী ধাতু, আর লবণে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সিসা পাওয়া গেছে। এমনকি মুরগি এবং মাছেও মিলছে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। তাছাড়া বিএসটিআই ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাজারের ৮৫ শতাংশ মাছে ফরমালিন মেশানো হয়। ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় কার্বাইড, ইথোফেন ও ফরমালিন। মাত্র এক বছরে মানহীন খাদ্যপণ্যের সংখ্যা ৮১ থেকে বেড়ে ১৯৯-এ পৌঁছেছে বলে সরকারি গবেষণা সংস্থা জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্যে বলা হয়।

Manual7 Ad Code

সূত্র আরো জানায়, দেশে এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার। সবকিছু চোখের সামনেই হচ্ছে। অথচ প্রতিকার নেই। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি রোগ। যা পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। আইন থাকলেও প্রয়োগ কম। একাধিক কর্তৃপক্ষ নামমাত্র অভিযান চালালেও কঠোর শাস্তির অভাবে ভেজাল রোধ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের জনস্বাস্থ্য এক সময় বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পণ্য ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলের কাছে অনেক সময় হেরে যেতে হয়। এ অবস্থা উত্তরণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, প্রতিদিন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির দায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code