যুদ্ধ চললে উপসাগর থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না : ইরান

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : ইরান মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে যে দাবি করেছেন, তার জবাবেই এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তেহরান  থেকে এএফপি এ খবর জানায়।  ট্রাম্পের ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হবে’ এমন মন্তব্যের পর আগের দিনের তেলের দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কিছুটা সংশোধন হয়। এর আগে ইরানের হামলার কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরই ইরান জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে।

ইরানের একটি তেল ডিপোতে হামলা এবং সৌদি আরব ও বাহরাইনের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলার পরও তেলের দাম বেড়ে যায়। তবে ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্যের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বাজার খোলার সময় ১৫ শতাংশ কমে যায় এবং এশিয়ার শেয়ারবাজার সোমবারের ধস থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবুও উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। এদিকে মিসর জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আর পাকিস্তান জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তারা নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দেবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে বলেছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের কাছে এই অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেবে না।’ আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা নির্ধারণ করব।’ সংগঠনটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত।

Manual4 Ad Code

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। আমেরিকান বাহিনী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন আমরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে প্রস্তুত।’

আরাঘচি আরও বলেন, তার বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পরও তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের সঙ্গে আবার আলোচনা করা আমাদের এজেন্ডায় থাকবে বলে আমি মনে করি না।’

‘মৃত্যু, আগুন ও ক্রোধ’

অন্যদিকে ট্রাম্পও যুদ্ধ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। আর যদি আবার শুরু হয়, তবে তাদের আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছি, তবে এখনো পুরোপুরি জিতিনি।’

তবে পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করেন, তেহরান যদি তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে বোমা হামলা চালাবে যাতে ইরানকে ‘রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’

Manual7 Ad Code

তিনি লেখেন, ‘তাদের ওপর নেমে আসবে মৃত্যু, আগুন ও ক্রোধ। তবে আমি আশা করি ও প্রার্থনা করি যেন তা ঘটতে না হয়।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেকানিয়াহুও বলেছেন, সংঘাত আরও চলতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের জনগণ এই সুযোগে দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

Manual3 Ad Code

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের জনগণকে অত্যাচারের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া। শেষ পর্যন্ত তা তাদের ওপরই নির্ভর করছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা তাদের শক্তি ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো থামিনি।’

সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতীকী ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে এবং এক পর্যায়ে দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তা দ্রুত কমে আসে।

তেলের দাম স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবেন।

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে, পৌঁছায়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখেঅঁ সোমবার বলেন, তার দেশ ও মিত্ররা প্রণালীটি পুনরায় চালু করতে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ একটি মিশন নিয়ে কাজ করছে। সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায় শেষ হলে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

‘আমেরিকান আগ্রাসন’

Manual7 Ad Code

এদিকে ঞঁৎশবু জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর তাদের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো দেশটির মধ্যাঞ্চলে একটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মোতায়েন করছে।

মঙ্গলবার উত্তর ইরাকে বিমান হামলায় তেহরান-সমর্থি খাতায়েব ইমাম আলি গোষ্ঠীর চার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

তারা বলেছে, কিরকুক প্রদেশের বেস এলাকায় তাদের অবস্থানে ‘আমেরিকান আগ্রাসনে’ এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি লেবাননেও এতে জড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সেখানেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code