ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual1 Ad Code

সম্পাদকীয়:

দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসায় ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমেনি। সোমবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, ভোক্তার ১০ শতাংশ খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে আয় বেড়েছে মাত্র ৮ শতাংশের মতো। অর্থাৎ ভোক্তার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশ। মূলত আয়ের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আর দীর্ঘসময় আয় বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকায় তা ভোক্তার জীবনযাত্রাকে নেতিবাচক ধারায় প্রভাবিত করেছে। রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির গতিশীলতা, এপ্রিল-জুন ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

Manual6 Ad Code

বৈশ্বিক মন্দার শুরু থেকেই দেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। সে তুলনায় আয় বৃদ্ধির হার বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। ফলে আয় ও ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যকার ব্যবধান বাড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় আমদানিকেন্দ্রিক পণ্যগুলোর দাম বাড়ায় এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে, যা সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে ডলারের দাম ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানি পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। গত মার্চে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে আমদানি পণ্যের মূল ভূমিকা ছিল ২৮ শতাংশ। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে।

Manual6 Ad Code

আবার দেখা যাচ্ছে-চাল, পেঁয়াজ, সোনালি মুরগি, সয়াবিন তেল, আলু, ফার্মের ডিমের মতো কিছু নিত্যপণ্যের মুনাফার মার্জিন প্রান্তিক পর্যায় থেকে খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের প্রান্তিক, পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যকার মুনাফার মার্জিন বেড়েছে। মার্জিন বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মুনাফাও বেড়েছে। এর বিপরীতে ভোক্তার খরচ বেড়েছে। মুনাফার মার্জিন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সয়াবিন তেল ও সোনালি মুরগির ক্ষেত্রে। এ দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমায় এর আমদানি খরচ কমলেও দেশীয় বাজারে দাম কমার বদলে তা বেড়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায় থেকে খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মুনাফার মার্জিনও গেছে বেড়ে। এর মানে হচ্ছে, মিল মালিকরা বেশি মুনাফা করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তারা পাইকারি সরবরাহে দাম কমাননি।

Manual4 Ad Code

ফলে খুচরা বাজারেও তা কমেনি।এজন্য শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে যাতে কোনো সংকট না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খাতে অর্থের জোগান বাড়াতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় সব ধরনের বাধা দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেউ যাতে বাজারে কারসাজি করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাজারে কোথায় ও কীভাবে একচেটিয়া প্রভাব তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে আইনি উদ্যোগ নিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code