ভোট ও প্রার্থীর বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসলাম একটি সর্বকালীন, সার্বজনীন পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবজীবনের যাবতীয় সমস্যার দিকনির্দেশনা ইসলামে বিদ্যমান। 

 

Manual1 Ad Code

ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, অর্থব্যবস্হা, সমরব্যবস্থা, স্বরাষ্ট্র পররাষ্ট্র ব্যবস্থা, আন্তদেশীয় আন্তর্জাতিক নীতি, পারস্পরিক সম্পর্ক, চারিত্রিক সংশোধনের দিকনির্দেশনা, সমসাময়িক স্বার্থ সংরক্ষণ, প্রতিরক্ষা নীতি, আইনকানুনের যাবতীয় শাখাপ্রশাখার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। 

Manual1 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

ইসলাম মানুষকে যেমনিভাবে আখেরাতের সব বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তেমনিভাবে দুনিয়ার সব বিষয়েও দিয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা।

 

সমস্যাসঙ্কুল মানবজীবনের নিত্যদিনের তাবৎ সমস্যা পেরেশানীর পরিপূর্ণ সমাধান বিদ্যমান রয়েছে কুরআনসুন্নায়। ইসলাম যেমনিভাবে চরমপন্থাকে সমর্থন করে না তেমনিভাবে নরমপন্থাকেও। উগ্রতা বা শিথিলতা কোনটাকেই ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম মধ্যমপন্থা ভারসাম্যনীতিতে বিশ্বাসী। 

 

Manual8 Ad Code

নির্বাচন একটি প্রাচীন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বিধান 

 

ইসলামের ইতিহাসে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, আল্লাহর নবী হজরত মুহাম্মাদের (সা.) ইন্তেকালের পর কাফনদাফনের আগে ইসলামী বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান এবং খলিফা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে হজরত আবু বকর সিদ্দিককে (রা.) সাহাবাদের মতামতের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচিত করা হয়।

 

অপরদিকে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন একটি অপরিহার্য বিষয়। রাষ্ট্রের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে বাছাই করার সুযোগ পায়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল প্রার্থীদের জন্য ভোট হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়ার মোক্ষম হাতিয়ার। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, ঘুষখোর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, মিথ্যাবাদী, ধর্মের প্রতি উদাসীন, খোদাদ্রোহী ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়া বা ক্ষমতায় বসার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

 

নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ঈমানআমল, জ্ঞান চারিত্রিক গুণাবলীকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নিরপেক্ষ হওয়া যেমন জরুরি, প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তিও তেমন সৎযোগ্য, জ্ঞানীগুণী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি দায়িত্বানুভূতিসম্পন্ন হওয়া তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন।

 

ইসলাম একটি সামাজিক মানবিক ধর্ম। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে দেশ, ধর্ম মানবতার সেবা করার বিরাট সুযোগ লাভ করা যায়। যারা প্রার্থী হবে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় মানবতার সেবার নিয়তে প্রার্থী হন এবং আমানতদারীর সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে আল্লাহকে ভয় করে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তারা শুধু দুনিয়ায় সম্মানিত হবেন না, বরং আল্লাহর কাছেও বড় মর্যাদার অধিকারী হবেন।

 

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যারা মানবসেবার জন্য দৌড়ঝাঁপ করবে, তাদের মর্যাদা হবে সে লোকের মতো যে সারারাত ইবাদত করে এবং সারাদিন রোজা রাখে।

 

ইসলাম সমাজকর্মীদের বড় মর্যাদা দিয়েছে। তাদের কর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে গণ্য করেছে। নিয়ম স্তর অনুযায়ী তাদের বিপুল পরিমাণ সওয়াব দেয়া হবে বলে হাদিসে এসেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code