মানসিক আঘাতজনিত চিকিৎসায় এমডিএমএ ব্যবহারের অনুমোদন নিউজিল্যান্ডের

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: গুরুতর পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) বা মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের চিকিৎসায় ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড এমডিএমএ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডসেফ দু’জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে গুরুতর পিটিএসডি আক্রান্ত রোগীদের জন্য এমডিএমএ প্রেসক্রাইব করার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডই বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ, যেখানে পিটিএসডির চিকিৎসায় এই মাদক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হলো। অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ সালে এ ধরনের অনুমোদন দেয়।

Manual5 Ad Code

নিউজিল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড সিমুর বলেন, ‘পিটিএসডি মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে এবং এর চিকিৎসা কঠিন।’ গত বছর গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ম্যাজিক মাশরুম ব্যবহারের অনুমোদনের পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছিলেন সিমুর। তিনি বলেন, ‘সাইকেডেলিক-সহায়ক থেরাপির মাধ্যমে এমডিএমএ পিটিএসডির চিকিৎসায় খুবই কার্যকর হতে পারে।’ নিউজিল্যান্ড ‘উদ্ভাবনী চিকিৎসার’ সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। পিটিএসডি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মৃত্যু, যুদ্ধ বা যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অথবা এমন ঘটনার হুমকির মুখে পড়ার পর তৈরি হতে পারে।

Manual5 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এমডিএমএ নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ২০২৪ সালে চিকিৎসায় এমডিএমএ ব্যবহারের বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। সংস্থাটি তখন বলেছিল, এটি নিরাপদ ও কার্যকর—এমন যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত পিটিএসডির ওষুধভিত্তিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। সেখানে দুটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর কার্যকারিতা পেতে প্রায় তিন মাস নিয়মিত সেবন করতে হয়। তবে এসব ওষুধে রোগীদের সাড়া দেওয়ার হার একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম।

গত বছর ইসরাইলে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হামাসের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার সময় সেখানে থাকা কিছু উৎসবপ্রেমী যে এমডিএমএ গ্রহণ করেছিলেন, তা তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনার মানসিক প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। ওয়েলিংটনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমডিএমএ-সহায়ক চিকিৎসার সঙ্গে সাইকোথেরাপিও দেওয়া হবে। রোগীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো মাদক সরবরাহ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চিকিৎসা একটি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল পরিবেশে অনুমোদিত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হবে।’ এ চিকিৎসা নিতে হলে রোগীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code