মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক: 

Manual2 Ad Code

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) গভর্নর লিসা কুক। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে অপসারণ করার প্রেসিডেন্টের কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার রীতি নতুন করে আইনি পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।

মামলায় কুক উল্লেখ করেছেন, আইন অনুযায়ী কেবলমাত্র ‘যথাযথ কারণ’ দেখিয়ে ফেড গভর্নরকে অপসারণ করা যায়। কিন্তু ট্রাম্প গত ২৫ আগস্ট নজিরবিহীনভাবে ঘোষণা দেন, তিনি কুককে বরখাস্ত করবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ফেডে যোগদানের আগে ২০২১ সালে মর্টগেজ জালিয়াতি করেছিলেন কুক। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে কুক বলছেন, এমনকি অভিযোগ সত্যও হলেও তা তাঁর অপসারণের ‘বৈধ কারণ’ হতে পারে না।

Manual3 Ad Code

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা এবং এর উপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন কুক। মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ফেড তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে, আবেদনে সেই আদেশ চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবীরা মামলায় তাঁর উল্লেখ করেছেন, “কলেজ জীবনে কারও জেব্রা ক্রসিং ভেঙে যাওয়ার মতো অপরাধ থাকলেও তা ফেড গভর্নরকে অপসারণের কারণ হতে পারে না।”

এই মামলাটি শুনানির জন্য মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জিয়া কবে, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত, তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে। আদালত সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিল, ফেড তার বিশেষ কাঠামো ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে প্রেসিডেন্টের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Manual3 Ad Code

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন ডলার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ফেড আগামী মাসেই সুদের হার কমাতে পারে।

লিসা কুক ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনয়নে ফেড গভর্নর হিসেবে যোগ দেন। তিনি এই পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী। এর আগে ট্রাম্প একইভাবে ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডের (এনএলআরবি) প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী সদস্য গুইন উইলকক্সকেও বরখাস্ত করেছিলেন।

Manual7 Ad Code

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেডের আইনে ‘কারণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এখন আদালতকে ব্যাখ্যা করতে হবে যে কুকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কি সত্যিই যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না।

ফেড মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের যে কোনো রায় তারা মেনে নেবে। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। কুকের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ডেস্ক: এস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code