

ডেস্ক রিপোর্ট: জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে দারুণ জয় দিয়ে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন অধিনায়ক সারিকা রিমন ও কনা আক্তার।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই কোয়ার্টারে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। বাংলাদেশের আক্রমণের বিপরীতে মালয়েশিয়ার রক্ষণও ছিল বেশ দৃঢ়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
তৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙে। ৩১তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। এই গোলসহ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে সাত গোল করেছেন তিনি।
এক গোলের লিড পাওয়ার পরও আক্রমণ থামায়নি বাংলাদেশ। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা আক্তার। দারুণ এক ফিল্ড গোলে মালয়েশিয়ার রক্ষণ ভেঙে বাংলাদেশের জয়কে আরও কাছে নিয়ে আসেন তিনি।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করে মালয়েশিয়া। তবে শেষ মুহূর্তে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে অবশ্য আরও দাপুটে ছিল দলটি। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে টানা চার জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। সেই হারে সরাসরি আগামী বছরের মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগও হাতছাড়া হয়। কারণ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে হতো।
তবে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হলে সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ নিজ মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে সেই মহাদেশ থেকে আরও একটি দল সুযোগ পায়। বাংলাদেশ এবার পঞ্চম হওয়ায় সেই সুযোগ তাদের সামনে আসতে পারে।
২০২৩ সালের জুনিয়র এশিয়া কাপেও অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেবার নবম স্থান নিয়ে আসর শেষ করতে হয়েছিল দলটিকে। এবার পঞ্চম হয়ে সেই অবস্থান অনেকটাই উন্নত করল বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে দাপুটে জয় এবং পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে হারানো তাই এবারের অভিযানে বাংলাদেশের বড় অর্জন হয়ে থাকল।