মিরপুরে শিকলে বাঁধা শিশুর জীবন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
৯ বছর তিন মাস বয়সের শিশু শান্ত। জন্মের সময় শিশুটি শান্ত স্বভাবে বেড়ে উঠবে এমনাই প্রত্যাশা করে নাম রাখা হয়েছিল তার। কিন্তু শান্ত তার বাবা মায়ের দেওয়া নামের বিপরীতভাবে বেড়ে উঠছে। সে অশান্তের মতো আচরণ করে, প্রতিবেশির ঘরে ঢিল মারে, মেরে ফেলতে যায় ছোট ভাইকে। তাই শিশু শান্ত ৫ বছর ধরে দড়ি ও শিকলে বাঁধা জীবনযাপন করছে। শিশুটির বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায়। তার পিতা জসিম উদ্দিন একজন প্রান্তিক কৃষক। শান্ত এখন পরিবারের জন্য বোঝা।
শান্তের আচারণ সইতে পারে না তার পরিবার সহ প্রতিবেশিরাও। তাই শান্তকে রাত হলেই নির্জন বাঁশ বাগানে শিকল দিয়ে বেধে রেখে আসে। শান্তের চিকিৎসার খরচ চালাতে ব্যর্থ কৃষক জসিম উদ্দিন। ৫ বছর বয়স থেকেই তাকে গাছে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে তার পরিবার।
শিশু শান্তের পিতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জন্মের পরে আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে তিন বছর বয়সে তার অবস্থা বুঝতে পারি। সে প্রথমে রান্না ঘরের গোবরের দেওয়া লাঠি (গরুর গোবর দিয়ে তৈরী জ্বালানী) খেতে শুরু করে। বাড়ির পাশের ময়লা-আবর্জনা, মাটি, সাবানের ফেনা, কলা গাছ, কপির ডাটা, জামের বিচি খেতে দেখে আমি অবাক হই। এরপর আমি ২০১৪ সালে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। আমি পেশায় একজন দিনমজুর। বর্গা নিয়ে চাষ করি ও অন্যের জমিতে লেবার দিয়ে সংসার চালায়। ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারিনি।’
তিনি আরো জানান, ‘একবেলা ভাত জোটে তো অন্য বেলা জোটে না। ছেলেকে চিকিৎসা করানোর মতো ক্ষমতা আমার নেই। শান্ত ঘুমাতে দেয় না। রাত ২ টায় ঘুমায়। প্রতিবেশিদের রাতে ঢিল ছুঁড়ে। তাই দিনে ১৫-১৬ ঘণ্ট বাঁধা থাকে। আমার এই সন্তানের চিকিৎসা করার জন্য আমি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সাহায্যের আবেদন করছি। আমার নগদ হিসাব নম্বর- ০১৯২৩০৭৪৭০৭। আমি বর্তমানে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। ’
শিশু শান্তের মা সিমা খাতুন বলেন, ‘সে রাতে ঘুমাতে দেয়না। আমার ছোট ছেলেকে একাধিকবার মেরে ফেলতে গিয়েছিলো। নিজের সন্তানকে বাঁধা কোন মায়ের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব না।’
শিশু শান্ত কারো সাথে কথা বলে না। তার নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারে না। নির্মমভাবে এই শিশুটিকে বেঁধে আর কতদিন বেঁচে থাকতে পারবে এই প্রশ্ন এলাকার সাধারন মানুষের। তবে শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী শান্তের চিকিৎসার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ছাতিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, শান্তর প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করা হয়েছে। পরিষদ থেকে উক্ত পরিবারকে সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি ব্যাক্তিগতভাবে সাহায্যে করি। আসলে শান্ত একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু। এ লকডাউন উঠে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হবে।
মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামশেদ আলী বলেন, ‘সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার পরিপত্র আসলে তাহলে তাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code