মুক্তিযুদ্ধভিওিক ছবি কমে যাচ্ছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: দেখতে দেখতে স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক হয়ে এলো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই পঞ্চাশ বছরে ৫০টিও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। যদিও স্বাধীনতার কিছুদিন পর মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ওপর সরকারি খবরদারি চলেছিল দীর্ঘদিন। সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর থেকে অবরোধ মুক্ত হতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে সংখ্যাও। সবচেয়ে বেড়েছিল এই দশকেই। ২০১১ ও ২০১৭ সালে চারটি এবং ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের ছয়টি করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘ ওগরিলা’, ‘মেহেরজান’ ও ‘কারিগর’। ২০১৪ সালে ‘মেঘমলস্নার’, ‘জীবনঢুলী’, ‘অনুক্রোশ’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’, ‘হৃদয়ে ‘৭১’ ও ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ ২০১৫ সালে ‘এইতো প্রেম’, ‘৭১-এর মা জননী’ ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’, ‘হরিযুপিয়া’ ও ‘শোভনের স্বাধীনতা’। আর ২০১৭ সালে ‘ভুবন মাঝি’, ‘রীনা ব্রাউন’, ‘লাল সবুজের সুর’ ও ‘৫২ থেকে ৭১’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যাটা আবার পড়তির দিকে। গত তিন বছরের মধ্যে দুই বছরে মুক্তি পেয়েছে মাত্র একটি করে! ২০১৬ সালে ‘একাত্তরের নিশান’ এবং ২০১৮ সালে ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এরপর আর কোনো পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। সম্প্রতি মাসুদ পথিকের ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’ নামের একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে অবশ্য- তবে সেটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল অনেক আগে। কিন্তু কেন কমে গেল মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সংখ্যা? তানভীর মোকাম্মেল আঙুল তুললেন এফডিসি কেন্দ্রিক নির্মাতাদের প্রতি। ‘নদীর নাম মধুমতি’র পরিচালক বলেন, ‘যারা বিকল্প ধারার নির্মাতা তারা তবু চেষ্টা করছেন। একঘেয়ে কাহিনি, সঙ্গে মঞ্চের মতো অতিনাটকীয় অভিনয়! শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই নয়, এমনটা একদম শুরু থেকেই হয়ে আসছে। তাই সংখ্যায় নয়, নজর দেওয়া উচিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রগুলোর শিল্পমানে।’ নিম্নমানের নির্মাণের জন্য আকরাম কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন নির্মাতাদেরই। বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম যারা চলচ্চিত্র বানিয়েছিলেন, তাদের জন্য নির্মাণটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তখনকার বাস্তবতায় সেটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হতে হবে নান্দনিক, শিল্পমানসম্মত। সে জন্য নির্মাতাকে আন্তরিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। বর্তমানের উপযোগী করে আধুনিক ও শাশ্বত রূপে উপস্থাপন করতে হবে।’ চলচ্চিত্রের অনেক সিনিয়র নির্মাতাদের মতে, নান্দনিক মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণের জন্য প্রয়োজন সত্যিকার মেধাসম্পন্ন পরিচালক। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যার ইতিহাস ও সাহিত্যের দখল আছে এমন পরিচালকের সংখ্যা এখন খুবই কম। গভীর ভাবের ছবি বানানোর প্রবণতাটাও কমে গেছে। সরকারিভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হলেও তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। ফলে সরকার মুক্তিযুদ্ধের ছবির জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে চাইলেও তা ঠিকঠাক কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির বিতর্ক আর মুক্তিযুদ্ধের নানা ইসু্যতে মত-বিভেদ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরির একটি বাধা বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম কিরণ বলেন, ‘আমাদের এখানে রাজনীতিকরণ খুব বেশি। যে যখন ক্ষমতায় থাকে সে তাদের নিজেদের সম্পৃক্ততাকে উঁচু করে ধরে। যেমন ধরুন আমাদের দেশে একটা ওপেন বিতর্ক হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছে। এসব মতবিভেদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির বিতর্কে পরিচালকরা জড়াতে চান না। যিনি বিএনপি করছেন তিনি একভাবে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানান আর যে আওয়ামী লীগ করেন, তার আদর্শ অনুযায়ী বানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code