

ম্যানচেষ্টার ব্যুরো অফিস ঃ ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনের সেবা নিয়ে কমিউনিটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। একেবারে অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে টেলিফোন না ধরা,সেবা গ্রহীতাদের সাথে অসাদাচরণ ও মুল্যবান ডকুমেন্ট গায়েব,সময়মতো পাসপোর্ট ডেলিভারী দিতে টালবাহানাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে,আসলে ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনের কাজ কি ? বর্তমান সরকার দেশে বিদেশে যেখানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে তুলতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে নর্থ ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্টানটি আদৌ কি তা করছে না, নাকি আরো দুর্নাম বয়ে আনছে তা এখন বিশ্লেষনের বিষয়। বাংলাদেশী সরকারী প্রতিষ্টান ম্যানচেষ্টার সহকারী হাইকমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের চিত্র সম্পর্কে কয়েকটি উদাহরণ-ই যথেষ্ট। ওল্ডহ্যামের প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা কাচা মিয়া জানান,তিনি রেকর্ডেড ডেলিভারীর মাধ্যমে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ম্যানচেষ্টার সহকারী হাইকমিশনের বরাবরে প্রেরণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি সেসব ডকুমেন্ট আর ফেরৎ পাননি। সংশ্লিষ্টরা ডাক মারফত ডকুমেন্টগুলোর প্রাপ্তিতা স্বীকার করলেও বর্তমানে তা অফিস থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে তাঁকে জানিয়েছেন। এবিষয়ে সঠিক কোনো তথ্যও পাননি দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধা এই কাচা মিয়া।
ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশন থেকে টেলিফোনে কোনো তথ্য পাওয়ারও সুযোগ নেই। অফিস সময়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায় না। আবার দৈব দুর্বিপাকে তা পাওয়া গেলেও ফোন রিসিভ করা কর্মকর্তাদের কাছে নুন্যতম শিষ্টাচারও পাওয়া যায় না। ব্রিটেনের অফিস আদালতে যে কোনো স্থানে গেলে যেখানে, “গুডমর্নিং স্যার/ম্যাডাম” বলে সম্বোধন কিংবা মুসলিম কোনো দেশের অফিসে গেলে সালাম করার শিষ্টাচার রয়েছে,সেখানে ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনে তা একেবারে অনুপস্থিত ; বরং এমনভাবে তারা কথা বলেন,যেনো মনে হয় ফোন করা লোকটি অপরাধী আর রিসিভ করা কর্মকর্তাটি জজ-ব্যরিষ্টার। অভিযোগ পাওয়া গেছে পাসপোর্ট নবায়ন ও নো ভিসা গ্রহণ করতে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরাও সেখানে নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হোন। সময়মতো ডেলিভারী না দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইন আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করা হয়নি বলেও অনেককে ফিরিয়ে দিয়ে নতুন করে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসার কথা বলা হয়। দূর-দুরান্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে এসে অনেকেই এই বিড়ম্ভনার স্বীকার হোন। অথচ পার্শ্ববর্তী বাাির্মংহামের বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনে সাধারণ প্রবাসীদের অনলাইন আবেদন করতে সাহায্য করা ছাড়াও কেউ তা পূরণ করতে না পারলে হাইকমিশনের কর্মকর্তারাই তা পুরন করতে সাহায্য করেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশে যেতে ভিসার জন্য আবেদন করা ভিনদেশী নাগরিকদেরও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান না করে তাদের সাথে অনেকটা অবহেলা করে নি¤œমানের আচরণ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে নানা কাজে ম্যানচেষ্টারের বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনে যাওয়া বেশ ক‘জন প্রবাসী এ প্রতিবেদককে জানান,সেখানে সেবা পেতে যাওয়া অধিকাংশরাই নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে সেবা গ্রহণ করছেন। অনেক সময় কাজ রেখে কর্মকর্তাদের খোশগল্পে মত্ত হতেও দেখেছেন অনেকেই। পর্যাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্বেও ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনের বাংলাদেশী কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না কেনো তা এখন এখানকার সকল বাংলাদেশীরই প্রশ্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,কমিউনিটির গুরুত্বর্পূণ মানুষদের সাথে ম্যানচেষ্টার সহকারী হাইকমিশনের যে সর্ম্পক থাকা প্রয়োজন ছিলো বর্তমানে তাও নেই। সে কারণে কমিউনিটির প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য তাদের কাছে পৌছায় না,আবার দু‘একটি বিষয় পৌছুলেও তারা গুরুত্ব দিয়ে তা গ্রহন করেন না। গত ২৪ অগাষ্ট বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন তৈরীর সময় ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্পর্কে তাদের সাথে টেলিফোনের মাধ্যমে দু,দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ক্রমাগত রিং বাজলেও কেউ-ই ফোন রিসিভ করেননি। প্রথম দফায় সকাল এগারোটায় এবং দ্বিতীয় দফায় বিকাল তিনটায় পুরো ৩১মিনিট অপেক্ষার পরও কেউ ফোন ধরেননি।
নর্থ ইংল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য প্রতিষ্টা করা ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশেরও প্রতিনিধিত্ব করছে। আর এই প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্টানটির হাল যদি এরকম হয় তা হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝেই শুধু নয়,এদেশে বেড়ে উঠা বৃটিশ বাংলাদেশী ছাড়াও নানা প্রয়োজনে যাওয়া অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মাঝেও বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সরকার ও তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে বিরুপ মনোভাবের সৃষ্টি করবে যা কারো কাছেই প্রত্যাশিত নয়। দেশের ভাবমুর্তি বৃদ্ধির বদলে ক্ষুণœ হবার বিষয়টি সঙ্গতঃ কারণেই কারো কাছে কাম্য হতে পারে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে সেবা গ্রহীতাদেরও যে ত্রুটি থাকবে না কিংবা ত্রুটি ছিলো না তা বলা না যাবে না। কমিউনিটির বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,সদ্য বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার মিসেস ফেরদৌসী শাহরিয়ার অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের হওয়ার কারণে কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর সুযোগ নিয়ে নানা অপকর্ম করে পুরো বাংলাদেশ হাইকমিশনকেই বিতর্কিত করেছে। তবে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন বর্তমানে সহকারী হাইকমিশনার হিসেবে সদ্য যোগ দেওয়া আবু নাসের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম যদি স্থানীয় বাংলা গনমাধ্যমকর্মী এবং কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করে এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহলে অনেক কিছুরই সমাধান হবে। তা না হলে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলো সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয় তা হলেই চিহ্নিত হবে সমস্যাগুলো আর ঢালাওভাবে সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। আর ম্যানচেষ্টার বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্তাপিত হচ্ছে তা সত্য হলে অবশ্যই বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন মহল থেকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও ভূক্তভোগীদের ধারনা।