

॥ সিরাজগঞ্জ ॥
যমুনা নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় চর ও ডুবোচর। পানি প্রবাহ বুকে ধারণ করে বয়ে চলা এদের।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও জালামপুরের সরিষাবাড়ীর সাথে সহজ যোগাযোগের একমাত্র নৌপথটি যমুনায় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু হয়ে ঘুরপথে গন্তেব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়ার পাশাপাশি সময়ের অপচয় হচ্ছে। আর ঘুরপথে যাতায়াতের কারণে নৌকার মাঝিমাল্লা, যাত্রীসাধারণ বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ দিকে স্থানীয় নৌকা মালিক ও মাঝিরা জানিয়েছেন, অগভীর সরু চ্যানেল দিয়ে জেলেদের মাছ ধরা ও যাত্রীবাহী ছোট ছোট নৌকা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বড় বড় যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এ দিকে যমুনায় বালুর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নৌ চ্যানেলটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে ছোট ছোট নৌকা চলাচলও যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে চ্যানেলটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ একসাথে ধারণ করে যমুনা নদী বিশাল জলরাশি নিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে যমুনা নদীতে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় যমুনা নদীতে অসংখ্য ছোট বড় চর ও ডুবোচর জেগে ওঠায় মারাত্মক নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এ কারণে সরিষাবাড়ীর সাথে কাজিপুরের নৌপথে সহজ যোগাযোগের একমাত্র চ্যানেলটি যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে এ পথে চলাচলকারী নৌকার মাঝিমাল্লারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাজিপুরের মেঘাই নৌ-ঘাটের নৌকারমাঝি আমিনুল ইসলাম ও নাটুয়ারপাড়ার রফিকুল ইসলাম জানান, নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন পানির গভীরতা সর্বনিম্নপর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ফলে নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় চর ডুবোচর।
বিশেষ করে এ নৌপথের নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, শুভগাছা ও মনসুরনগর ইউনিয়নের এবং সরিষাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০কিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে কাজিপুর উপজেলা সদর থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা সদরে যাতায়াতের মাধ্যম মেঘাই, নাটুয়ারপাড়া, মনসুরনগর ও চরগিরিশ ঘাটের নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এখন এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে মনসুরনগর ও চরগিরিশ যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও নৌকার মাঝিমাল্লাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আর সময় ও অর্থ দু’টোরই অপচয় হচ্ছে।
মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজমহর জানিয়েছেন, কুমারিয়াবাড়ী নৌকা ঘাট থেকে মেঘাই যেতে বর্ষা মওসুমে সময় লাগত মাত্র ১ ঘণ্টা। আর এখন লাগে ৩ ঘণ্টা। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ দু’টোই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
মেঘাই ও নাটুয়ারপাড়া নৌ-ঘাটের ইজারাদার টি এম জাহিদুল ইসলাম শামীম বলেন, গত বছর স্থানীয় ঘাট ও নৌকা মালিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলা ড্রেজার দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার চর খনন করে একটি সরু চ্যানেল চালু করেছিল। পরে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এবার তাদের পক্ষে ব্যয়বহুল খননকাজ করে নৌ চ্যানেলটি সচল রাখা সম্ভব নয়।
এ ছাড়া বালুর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ক্রমে চ্যানেলটি ভরাট হয়ে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে যাত্রীবাহী বড় বড় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।