যুক্তরাজ‍্যে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual2 Ad Code

সাজিদুর রহমান, ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাজ‍্যে বসবাসরত একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ‍্যোগে আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতির উদ্দশ‍্যে প্রশ্ন রেখে বলা হয়েছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা দেখার জন‍্যই কি আমরা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম? একজন মুক্তিযোদ্ধার অপমান কি সারা জাতির অপমান নয়?

Manual2 Ad Code

একাত্তরের রনাঙ্গনের মোট ১৮জন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে হলভর্তী উপচে পরা দর্শকদের উদ্দেশ‍্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি যুক্তরাজ‍্যে বাংলাদেশের সাবেক হাই কমিশনার, বীর মুক্তিযোদ্ধা  গিয়াস উদ্দিন আহমেদ যখন এই প্রশ্ন ছুড়ে দেন, তখন অনুষ্ঠানে নেমে আসে পিনপতন নিরবতা। লজ্জায় নত হয়ে বসে থাকেন হলভর্তী দর্শকরা।

রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে যুক্তরাজ‍্যে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ‍্যোগে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সাংবাদিক, রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা ছিলেন উপস্থিত। বসার জায়গা না পাওয়ায়  বিপুল সংখ্যক দর্শক দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ, অনুধাবণ করেছেন তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরন জনিত বুকের চাপা কষ্ট।

টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও সাংস্কৃতিক ব‍্যক্তিত্ব উর্মি মাজহারের উপস্থাপনায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লক্ষ মানুষ, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাসহ সকল শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে নিরবতা পালনের মাধ‍্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণার পরপরই ‘ওরা আসবে চুপি চুপি…’ গানের তালে তালে ধীরে ধীরে হেঁটে অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন দেওয়ান গৌস সুলতান, লোকমান হোসেন, আবু মুসা হাসান ও ফয়জুর রহমান খানসহ বর্তমানে যুক্তরাজ‍্যে বসবাসরত মোট ১৮জন মুক্তিযোদ্ধা। হলভর্তি দর্শকরা তখন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মাধ‍্যমে দাড়িয়ে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংক্ষিপ্ত বক্তব‍্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান ও মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান বলেন, আজ আমরা ৫৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি এমন এক সময়ে যখন আমাদের প্রিয় দেশমাতৃকার স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়েছে, যখন আমাদের অহংকার ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি উঠে পড়ে লেগেছে। লাখো শহীদের রক্তে কেনা স্বাধীনতার গৌরবগাথা মুছে ফেলার জন্য চলছে একের পর এক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র।

অনুষ্ঠানে  আলোচক ছিলেন –ব‍্যারিষ্টার তানিয়া আমির। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, বাহাত্তরের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান জ‍য় বাংলা মুছে ফেলতে চায়- এরা কারা?  আজকের এই অপশক্তির পূর্বসূরী পাকিস্তানীরা একাত্তরে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়েও যে জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি, এরা সেই জাতির স্বাধীনতা নিশ্চিহ্ন করতে চায় আজ ৫৪ বছর পর এসে? অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণের ফাঁকে ফাঁকে ছিলো দেশের গান ও কবিতা আবৃত্তি।

Manual3 Ad Code

Desk: K

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code