যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করল কানাডা

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, তবে সকল শুল্ক তুলে নেওয়া হয়নি। এমন দাবি করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শঁপাইন। অটোয়া থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে, রোমে পোপ লিও চতুর্দশের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে বৈঠকে করেন। কার্নির দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা “তাৎক্ষণিক বাণিজ্যচাপ এবং নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গঠনের প্রয়োজন” নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও ভ্যান্স এই বৈঠককে “সাধারণ সৌজন্যপূর্ণ আলোচনা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান, এতে ন্যায্য বাণিজ্যনীতিসহ দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কথা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পরই ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন।

Manual2 Ad Code

তবে নির্বাচনী প্রচারে কারখানাগুলোকে শর্তসাপেক্ষ কিছু ছাড় দেওয়া হয়। এই ছাড় তারা পাবে যদি তারা কানাডায় উৎপাদন ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে।  কানাডার এক সরকারি গেজেটে গত ৭ মে জানানো হয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, উৎপাদন ও জনসুরক্ষায় ব্যবহৃত কিছু পণ্যের শুল্ক ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেসময় পদক্ষেপগুলো তেমন নজরে আসেনি। তবে সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকনমিকস জানায়, এত পণ্য এই ছাড়ের আওতায় যেসব মার্কিন পণ্য পড়েছে সেগুলোর ওপর কার্যকর শুল্ক হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এই তথ্য তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পলিয়েভ্রে অভিযোগ করেন, কার্নি সরকার জনগণকে না জানিয়ে চুপিসারে সব শুল্ক তুলে নিয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী শঁপাইন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, এটি “মিথ্যাচার”। তিনি আরো বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে ৬০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক দিয়েছে, যার ৭০ শতাংশ এখনও বহাল রয়েছে।”

কানাডিয়ান অর্থমন্ত্রী জানান, এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে, কিন্তু সেই সঙ্গে নিজেদের অর্থনীতির ওপর ক্ষতি কমিয়ে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে। অন্যদিকে তার মুখপাত্র অড্রে মিলেট বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করতে পারে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। এখনও মার্কিন পণ্যের ওপর ৪৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের শুল্ক আরোপ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৪১ মিলিয়ন মানুষের দেশ কানাডার ৭৫ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। সর্বশেষ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ইতিমধ্যেই কানাডার অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ হারে সাধারণ শুল্ক এবং গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে খাতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। তবে কিছু শুল্ক আলোচনার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

Desk: K

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code