যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পক্ষে অনড় থাকবে

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

সম্পাদকীয়:

ইউক্রেনীয় নেতারা যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলো তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের উদ্বেগ, ক্লান্তি ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। গত বসন্ত ও গ্রীষ্মে যুদ্ধক্ষেত্রে কিছু সাফল্য অর্জিত হলেও, যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। কিয়েভজুড়ে যুদ্ধের নিহতদের ছবি ঝুলছে, যা ইউক্রেনের সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করছে। এর মধ্যে রাশিয়ার বোমা হামলা আরও বেড়েছে, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে। আসন্ন শীতকালকে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে কঠিন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ওপর ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের চাপ অনেক বেশি। আগামী সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে আঘাত হানার অনুমতি দেবে কিনা। এটি আমেরিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে রাশিয়ার সীমান্ত এলাকায় হামলা চালানোর অনুমতি পেয়েছে এবং তারা আরও গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য অনুমতি চাচ্ছে।

Manual4 Ad Code

ইউক্রেনের জন্য এটি একটি ন্যায্য দাবি। রাশিয়া তাদের ভূখণ্ড থেকে বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। ইউক্রেন চায়, তারা যেসব অস্ত্র পেয়েছে তা দিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করতে। এই পদক্ষেপকে একটি ‘উসকানি’ হিসেবে দেখা হলেও, এটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষারই একটি অংশ। এর আগে ইউক্রেন যখন মার্কিন অ্যাব্রামস ট্যাংক, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিল, তখনও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুমকি দিয়েছিলেন। তবে, বাইডেন প্রতিবারই পুতিনের হুমকির মুখে সিদ্ধান্ত নিতে কিছু সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের অনুরোধ মেনে নিয়েছেন।

Manual4 Ad Code

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মার্কিন নির্বাচনের মাত্র ৪৭ দিন বাকি। বাইডেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেদিকেও নজর রাখছেন। ইউক্রেনের নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের সামরিক ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, নিজেদের রক্ষা করতে ও রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় তাদের আরও বড় অস্ত্র প্রয়োজন।

Manual8 Ad Code

গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন কিয়েভ সফর করলেও ইউক্রেনের চাওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানাননি। ইউক্রেনের নেতারা আশা করেছিলেন যে, ব্লিঙ্কেন তাদের দাবিগুলো নিয়ে বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কিন্তু তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি’। তার এই মন্তব্য যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা এ বিষয়ে ধৈর্য ধরছেন। তবে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানোভ আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, পুতিন প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের বিলম্বকে অনুমতি হিসেবে গ্রহণ করেন। তাকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে হবে। পুতিনের জন্য বিষয়টি খুবই সহজ হয়ে যাচ্ছে। জেলেনস্কি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সেখানে তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য চার দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। যদিও তিনি এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি। তবে ইউক্রেনের অবস্থান স্পষ্ট যে, যুদ্ধ শেষ করতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু সেই সঙ্গে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অগ্রগতি চাইছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code