

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শিগগির দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ১৬ জুন বুধবার উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ ক্লাব যুক্তরাষ্ট্র’র সহযোগিতায় এ বর্ণিল অনুষ্ঠানে দেশ-প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।

শিল্পপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী ও সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুলের পরিচালনায় বাংলাদেশ ক্লাব ইউএস’র সভাপতি নুরুল আমিন বাবু, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন বাবুল, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সংগঠক সৌদ চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার আনোয়ার কবীর, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফাহিম রেজা নূর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকী এবং ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন স্বীকৃতি বড়–য়া। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিনের খুবই দরকার উল্লেখ করে বলেন, ভ্যাকসিন সহযোগিতার জন্য প্রবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইন প্রণেতাদের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশ ক’জন প্রবাসী ভ্যাকসিনের জন্যে হোয়াইট হাউজ সহ বাইডেন প্রশাসনের সাথে নানাভাবে যোগাযোগ করায় অনেক কাজ হয়েছে।

ড. মোমেন বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিনের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকায় বহু ভ্যাকসিন মওজুদ পড়ে আছে। অনেক ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এসব ভ্যাকসিন বিশেষ করে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিন বাংলাদেশ পেলে খুবই উপকৃত হবে।

ড. মোমেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার সুযোগ হওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে খুব ভাল অবস্থানে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. এ কে এ মোমেন দেশের সার্বিক উন্নয়নে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত হয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সমস্যাকে এখন একটি অগ্রাধিকারের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের মানবাধিকার গ্রুপগুলো খোঁজ-খবর নিচ্ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া

রোহিঙ্গারা কোন অবস্থায়, কোন যায়গায় আছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের স্বদেশে মার্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। এ কাজে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে যে চাপ দেয়া দরকার সেইরকম কোন চাপ দেয়া হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংস্থা ও দেশ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে এ নিয়ে প্রবাসীদেরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আমেরিকায় নাগরিকত্ব নিয়ে আশ্রয় নেওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য প্রবাসীদের মার্কিন সরকারকে চাপ দেয়ারও আহ্বান জানান।

ড. এ কে এ মোমেন বলেন, প্রবাসীরা হচ্ছেন বাংলাদেশের বিশেষ দূত। প্রবাসীদের যে কোন সমস্যার সমাধানে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেবা পেতে কোনো অসুবিধা হলেই তারা যেন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। সাথে সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে বিনিযোগের বিপুল প্রয়োজন এবং সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালাও করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান শুরু হয়েছে। মালয়শিয়া, সৌদি আরবের প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয় প্রদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের অর্থ পাচার করে কারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে কোন তথ্য নেই উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, প্রবাসীরা এ নিয়ে তথ্য প্রদান করলে বাংলাদেশে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

আয়োজক সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হয় প্রধান অতিথি ড. মোমেনকে। আয়োজকদের পক্ষে জহিরুল ইসলাম, নুরুল আমিন বাবু, ইফজাল চৌধুরী, মাহফুজ হায়দার, শিবলী সাদিক, জামাল হোসেন সহ সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, আই-গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর

ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল হক হেলাল, সাবেক সভাপতি বদরুল খান, রাজনীতিক আবদুর রহিম বাদশা, মহিউদ্দি দেওয়ান, আবদুল হাসিব মামুন, এমদাদ চৌধুরী, রফিকুর রহমান, আবু তালিব চৌধুরী চান্দু, নিউজার্সির হেল্ডন সিটির কমিশনার দেওয়ান বজলু, কমিউনিটি লীডার রানা ফেরদৌস চৌধুরী, আজিমুর রহমান বুরহান, নাসির উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ফকু চৌধুরী, খান শওকত, সাখাওয়াত বিশ্বাস, এনায়েত হুসেন জালাল প্রমুখ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে সিলেট গণদাবী পরিষদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি স্বারকলিপিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে দেয়া হয়।

শেষে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রয়, শহীদ হাসান, রোজি এবং মহফুজা মুমু সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।