যুবলীগের প্রেসিডিয়ামে নতুন মুখ যারা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

সম্মেলনের এক বছর পর ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে আওয়ামী যুবলীগের। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর সদস্য সংখ্যার আকারে এটি সবচেয়ে বড় কমিটি। আর এ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছে বেশকিছু নতুন মুখ।

এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বিভিন্ন জেলা থেকে ওঠে আসা নতুন মুখ, সিসি কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিটির বেশ কয়েকজন। কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের কাছে হস্তান্তর করেন।

Manual3 Ad Code

 

যুবলীগের নীতিনির্ধারণী পদ প্রেসিডিয়াম মেম্বারে এসেছে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। তাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। যিনি যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে। এছাড়া একই পদে রয়েছেন শেখ হেলালের ছোটভাই শেখ সোহেল উদ্দিন, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও জাতীয় বীর কর্ণেল অব. শওকত আলীর বড় ছেলে ডা. খালেদ শওকত আলী।

এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইম। নাইম শেখ সেলিমের ছোট ছেলে। একই কমিটিতে তার বড় ভাই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলে ফাহিমও রয়েছেন।

 

নতুন কমিটিতে বাদ পড়েছেন যুবলীগের গত কমিটির বিতর্কিত নেতারা। পাশাপাশি বয়স ৫৫ বছরের বেশি হওয়ায় বাদ পড়েছেন ৭০ জনের বেশি। প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ রাখা হয়েছে ২৭টি। এছাড়া সংগঠনের সভাপতি তার পদধিকার বলে এই পর্ষদের সদস্য। এই ২৭টি পদের মধ্যে পাঁচটি পদ খালি রেখে বাকি পদগুলো ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে যুবলীগে এবারই প্রথম এসে আইন সম্পাদকের পদে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়িদুল হক সুমন। সুমনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে বিশাল জনপ্রিয়তাও।

Manual8 Ad Code

পদ পাওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে সুমন লেখেন, ‘কমিটিতে নাম থাকা কোন সুবিধা নয় বরং বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ভাইয়ের সম্মান পাহারার দায়িত্ব নেয়া। দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’

সাংগঠনিক কমিটিতে পদ পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগও।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে সংগঠনটির সভাপতি পদে আসেন শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন মাঈনুল হোসেন খান নিখিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হলো।

স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুবলীগ গঠন করেন তার ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি। ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে তিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ২০১২ সালে ষষ্ঠ কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মনি ও শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক। তারপর ছয় বছর নির্বিঘ্নে কাজ করে এলেও গত বছর ক্যাসিনোকাণ্ডে বড় ধাক্কা খান ওমর ফারুক; সেই সঙ্গে সমালোচনায় নাকাল হয় যুবলীগ। এরপর সংগঠনটির অনেকেই ক্যাসিনোকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে কারাগারে আছেন। অনেকেই সংগঠন ত্যাগ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

Manual1 Ad Code

প্রায় সাত বছর আগে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছিলেন। সেই কমিটির নেতাদের অনেকেই ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ নানা অপরাধে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

 

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code