যেভাবে চুপ থাকলে ইবাদতের সওয়াব পাবেন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

ইসলামিক ডেস্কঃ 

কথার গুণে মানুষ যেমন প্রশংসায় ভাসে, তেমনি এ দোষে নানা রকম সমস্যায় পড়ে। কথা দিয়ে যেমন অন্যের মন জয় করা যায়, তেমনি অন্যকে আঘাতও করা যায়। উভয় প্রকার কথার প্রভাব মানুষের হৃদয়ে রেখাপাত করে। তাই বাকশক্তি ও জিহ্বার নিয়ন্ত্রণে অনেক গুনাহ থেকে মুক্তি মেলে।

অনেক সময় জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ বা নীরবতা অবলম্বন প্রয়োজন। বিশেষত একজন মুমিন তার সময় ও জিহ্বাকে অযথা ব্যবহার করবে না। হাদিসের ভাষ্য মতে ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা। নীরবতা কিংবা পরিমিত কথা বলার বেশ উপকারিতা রয়েছে।

 

চুপ থাকা মানে পরিশ্রমহীন ইবাদত

Manual5 Ad Code

মুমিনের সব কাজ হবে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী। তার কথাবার্তা, কাজকর্ম সব হবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শমাফিক। সে অপ্রয়োজনীয়-অনর্থক বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তারা, যারা জমিনে নম্রভাবে বিচরণ করে এবং অজ্ঞ লোক যখন তাঁদের লক্ষ্য করে কথা বলে, তখন তাঁরা শান্তিপূর্ণ কথা বলেন।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরবতা অবলম্বন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১২০)

চুপ থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ

 

জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জিহ্বার অপব্যহারের কারণে জীবনে নেমে আসে হাজারো বিপদ ও দুর্ভোগ। অযথা জিহ্বার ব্যবহার থেকে বিরত থাকায় পাপ থেকে মুক্তি মেলে। যত কম কথা বলা যায় ততই কল্যাণকর। ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, যে নীরবতা অবলম্বন করে সে মুক্তি পায়। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২৪৮৫)

অন্য হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা কখনো কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক এমন কথা বলে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আবার কখনো কখনো বান্দা আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা বলে, যার পরিণতি সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই, অথচ ওই কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬৪৭৮)

চুপ থাকা মহানবী (সা.)-এর গুণ

রাসুল (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়—তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করতেন। প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলতেন না। একদা সিমাক (রহ.) জাবের ইবনে সামুরা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে ছিলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। খুব কম হাসতেন…।’ (আহমদ, হাদিস : ৬৩০৮ )

Manual3 Ad Code

জিহ্বার অপব্যবহারের পরিণতি : জিহ্বার অপব্যবহারের ফলে অনেক অপরাধ ও গুনাহর দ্বার খুলে যায়। গালমন্দ, গিবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা বলা সবই জিহ্বার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। হাদিসের ভাষ্য মতে এ সব কিছু জাহান্নামের পথকে সুগম করে দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, ‘কোন কাজটি বেশি পরিমাণে মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন, আল্লাহভীতি, ভালো আচরণ ও উত্তম চরিত্র। রাসুল (সা.)-কে আবার প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজ বেশি পরিমাণে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

Manual5 Ad Code

ইবাদত অনেক ধরনের রয়েছে। শারীরিক, আর্থিক এবং শারীরিক ও আর্থিক উভয়টির সম্মিলন। কিন্তু নীরবতা এটি কোনো প্রকারেই পড়ে না। এই ইবাদতটি পালন করতে কোনো পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। ওমর (রা.)-এর একটি বাণী প্রসিদ্ধ আছে। তিনি বলেন, ‘চুপ থাকার কারণে আমি কখনো লজ্জায় পড়িনি। তবে কথা বলার কারণে আমি অনেকবার লজ্জিত হয়েছি।’

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code