রাশিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা কম যে কারণে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

চীনের হুবেই প্রদেশে প্রাদুর্ভাবের পর নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়েছে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে। ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রেও আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ের মধ্যে আলোচনায় নেই রাশিয়া।

Manual5 Ad Code

১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। মৃত্যু হয়েছে এক জনের। অথচ ইউরোপের ৬ লাখ ২৮ হাজার জনসংখ্যার দেশ লুক্সেমবার্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭০ জন আর মৃত্যু হয়েছে আট জনের। চীনের সঙ্গে রাশিয়ার ২ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তারপরও রাশিয়ায় কেন আক্রান্তের সংখ্যা এত কম? সেই বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

চলতি সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, তার দেশ করোনার গণবিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, দ্রুত এবং আগ্রাসী পদক্ষেপের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। সত্যিই কি রাশিয়ায় করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে? রুশ স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুতিনের কৌশল কাজে লেগেছে। রাশিয়া ৩০ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সঙ্গে অনেকগুলো এলাকা কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

Manual8 Ad Code

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বারবার বলছে, করোনা প্রতিরোধে পরীক্ষা সবচেয়ে বড়ো উপায়। রাশিয়ার ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি মেলিতা ভুজনোভিচ বলেন, রাশিয়া এ পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ভোক্তা ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান বলছে, এখন পর্যন্ত রাশিয়ায় ১ লাখ ৫৬ হাজার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মার্চের শুরু থেকে পরীক্ষা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতেই ইরান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আগত ভ্রমণকারীদের বিমানবন্দরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে রাশিয়া। ডব্লিউএইচও বলছে, পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণ, সংস্পর্শ নির্দিষ্ট করা, আইসোলেশন এগুলো খুবই জরুরি প্রাথমিক পদক্ষেপ। এরপর জরুরি সামাজিক দূরত্ব তৈরি। সেটাও রাশিয়া আগে শুরু করেছে। তবে রাশিয়া শুরুতে ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের পরীক্ষা করেনি। পরে ইউরোপ থেকে যারা রাশিয়ায় এসেছে তাদের তাপমাত্রা মেপে অসুস্থদের দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ায় করোনা আক্রান্তের বেশির ভাগ ইতালি থেকে এসেছে।

Manual2 Ad Code

তবে রাশিয়া এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। রাশিয়া এর আগে ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল দুর্ঘটনার সময় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করেছিল। প্রটেক্টিভ সরঞ্জামের অভাবের খবর সামনে আসার পর অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, পরীক্ষা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, কারণ একটি ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা হয়। সেখানে এত বেশিসংখ্যক পরীক্ষা সত্যিই কঠিন। এছাড়া অনেক মৃত্যুর জন্য নিউমোনিয়া বা অন্যান্য কারণ উল্লেখ করছে কর্তৃপক্ষ।

Manual2 Ad Code

তবে রাশিয়ার চিকিত্সকরা ও ডব্লিউএইচও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ভুজনোভিচ বলেছেন, লুকোচুরি হয়নি। আর এখন সংক্রমণের সংখ্যা কম মানে এটা নয় যে সামনে বাড়বে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code