রাশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করবে সরকার

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৪৩৮ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে থাকে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দরপত্র/কোটেশনের পাশাপাশি জি-টু-জি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। জি-টু-জি পদ্ধতিতে গম আমদানির লক্ষ্যে রাশিয়ার সংগে বাংলাদেশের চুক্তি আছে। ওই চুক্তির আওতায় দেশে গমের প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারদর পর্যালোচনা এবং করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করে রাশিয়ান ফেডারেশনের মনোনীত সরকারি সংস্থা ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন প্রদিনটর্গ থেকে সর্বশেষ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম স্পেশিফিকেশন অনুযায়ী পাওয়া গেছে। বাকি গমও খুব শিগগির দেশে আসবে।

Manual4 Ad Code

গত ১৮ মে রাশিয়ান ফেডারেশনের চলতি ২০২০-২০২১অর্থবছরের জন্য চিঠি দিয়ে গম সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করে। ওই চিঠি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে গমের প্রয়োজনীয়তা ও করোনা পরিস্থিতিতে ভবিষ্যত খাদ্যের চাহিদা বিবেচনা করে রাশিয়া থেকে গম কিনতে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদলকে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে অনুযায়ী গত ৮ জুলাই রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রয় কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়।

Manual1 Ad Code

সভায় জি-টু-জি পদ্ধতিতে গম আমদানির চুক্তিনামার শর্ত এবং দাম নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় সভাটি মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত ৪ আগস্ট আবার ভার্চুয়াল সভা হয়। সভায় প্রতি মেট্রিক টন ২৫৮ মার্কিন ডলার দরে রাশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে আলোচনা সফল হয় এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

Manual7 Ad Code

উল্লেখ্য, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ৩৩ ধারায় পণ্য, কার্য ইত্যাদি ক্রয়ে আন্তর্জাতিক  প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্রের নিয়ম আছে। পক্ষান্তরে, ৬৮ (১) ধারায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বা বিপর্যয়কর কোনো ঘটনা মোকাবিলার জন্য জনস্বার্থে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে পণ্য কেনার কথা উল্লেখ আছে।

বর্তমান পর্যায়ে সরকারি ভান্ডারে খাদ্য মজুদ বড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনসাধারণের মধ্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য বলয় সুসংহত করা এবং খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে গমের চাহিদা ও মজুদ পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

এ অবস্থায় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জি-টু-জি পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে পিপিএ ২০০৬ এর ৩৩ ধারার বাধ্যবাধকতা থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অব্যাহতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮ (১) ধারার আওতায় পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৩২ এবং পিপিআর-২০০৮ এর ৭৬(২) ধারায় বর্ণিত ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code