রায়পুরে মৎস প্রজনন কেন্দ্রটি জনবল সংকটে জর্জরিত : ৮২ পদের ৬০টি পদ শূণ্য

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

আশির দশকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য হ্যাচারী ছিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫৪ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মৎসপ্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র। কয়েক বছর ধরে জনবল, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে পিছিয়ে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ভেস্তে যেতে পারে বিপুল সম্ভাবনাময় এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারের উদ্দেশ্য। তবে হতাশার মাঝেও এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত রেণুপোনা ও দেশী প্রজাতীর পোনা বিক্রি করে ৬১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫’শত নিরানব্বই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।

Manual1 Ad Code

জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ প্রকল্পের ২ হাজার ৪শ ২৮ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়, ২ হাজার হেক্টর জমির বেরোপিট ও প্রধান খালগুলোতে মাছ চাষের লক্ষ্যে মৎস প্রজনন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেয় সরকার। রুই জাতীয় মাছের রেনু ও পোনা সরবরাহ করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালে এটি স্থাপন করা হয়। ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রতিষ্ঠিত রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করে ১৯৯২ সালে। ২১.৮৩ হেক্টর আয়তনের এ কেন্দ্রে মোট পুকুর আছে ৭৫টি। যাকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৫৬টি পুকুরে রেণুপোনা উৎপাদন করার কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

Manual7 Ad Code

মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ ৮২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুমোদন রয়েছে। কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। বাকি ৬০টি পদে দীর্ঘদিন ধরে লোকবল না থাকায় কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। শূন্য পদগুলো হলো, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ০৬টি, মৎস সম্প্রসারণ সুপারভাইজার ০৪টি, ক্ষেত্রযোগ গবেষণাগার ০৬টি, দক্ষ ফিশারম্যান ০৬টি, ও অফিস সহায়ক, হ্যাচারী গার্ড, নৈশপ্রহরী ০৪টি করে, প্রশাসনির কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ০১টি করে। এছাড়াও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ শূণ্য রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

Manual5 Ad Code

মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, লোকবল সংকটের কারনে উৎপাদন ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শূণ্য পদে লোক নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি লোকবল সংকটের কারণে এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটিতে লোকবল সংকট দূর করা গেলে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code