

বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশি-বিদেশি নানা আইনি জটিলতায় মামলাটির তদন্ত আটকে আছে প্রায় সাত বছর। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নিয়ে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আদালতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সিআইডির দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইন সফরে গিয়েছেন। তারা সেখানে ১৫ দিন অবস্থান করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন বলেও জানা গেছে।
সিআইডির দুই কর্মকর্তার ফিলিপাইন সফরের বিষয়ে গত ২৮ নভেম্বর দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান ফিলিপাইনের আদালতে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ১ ডিসেম্বর ফিলিপাইন গেছেন। তাকে সহায়তার জন্য সঙ্গে গেছেন আরেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম। তারা ১৫ দিন সেখানে অবস্থান করবেন। এটি তাদের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাইবার হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। যা ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) হয়ে চলে যায় সেখানকার বিভিন্ন জুয়ার আসর ক্যাসিনোতে।
এর মধ্যে চুরির ঘটনার প্রথম বছরেই ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আনা গেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা এ দেশ দুটি স্বেচ্ছায় দিয়েছিল। বাকি পাঁচ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিষয়ে ফিলিপাইনের আদালতে ১২টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলার অগ্রগতি খুব একটা না থাকলেও বাংলাদেশের সিআইডির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব মামলার শুনানিতে অংশ নিতেই সিআইডির দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইনে গেছেন।