

ব্রিটিশ মুসলিম এমপি রুশনারা আলী ও রুপা হককে বিদ্বেষমূলক চিঠি পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ নিন্দা জানান। মে বলেন, মুসলিম এমপিদের কাছে সন্দেহজনক প্যাকেট পাঠানোর যে খবর এসেছে। আমি নিশ্চিত এই অগ্রহণযোগ্য ও ঘৃণ্য আচরণের নিন্দায় পুরো পার্লামেন্ট আমার সঙ্গে যোগ দেবে। ব্রিটিশ সমাজে এসবের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটেনের চারজন মুসলিম এমপি ওই চিঠি পেয়েছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই এমপি রুশনারা আলী এবং রুপা হকও রযেছেন। ব্রিটিশ উগ্রপন্থীরা ৩ এপ্রিলকে ‘পানিশ অ্যা মুসলিম ডে’ ঘোষণা করে এসব বিদ্বেষ প্রসূত চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে রহস্যময় আঠালো তরলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে ‘অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক ব্রিটিশ এমপি রূপা হকের ভাষায় এটি ছিল একটা ‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা’। তাদের দুইজনই ওয়েস্টমিনস্টারে নিজেদের পার্লামেন্টারি অফিসে ওই চিঠির প্যাকেটগুলো পান। রূপা হকের একজন স্টাফ ওই চিঠির প্যাকেট খুলেছিলেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রূপা হক বলেন, যে স্টাফকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল ইতোমধ্যে সেখান থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।এখানে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে… মুসলিম এমপিদের এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে এমন মুসলিমবিদ্বেষী চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে। একই ধরনের চিঠি দিয়ে প্রচারণা চলছে অনলাইনেও। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রেরিত চিঠিকে ‘বিদ্বেষের প্রতিনিধি’ বলে আখ্যা দিয়েছে পুলিশ। এরইমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট। মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত একটি সংস্থার দাবি, এর সঙ্গে স্থানীয় একটি চিঠি-পার্সেল আদান-প্রদান সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সংযোগ রয়েছে।
৩ এপ্রিলকে ‘পানিশ অ্যা মুসলিম ডে’ ঘোষণা করে বিদ্বেষপ্রসূত চিঠিটি ছাড়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের লন্ডন, ইয়র্কশায়ার ও মিডল্যান্ড এলাকার বাসিন্দারা এ ধরনের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অনলাইনে একই ধরনের একটি চিঠি ছড়ানো হয়েছে এ-ফোর সাইজ কাগজের ছবিতে। ছড়িয়ে পড়া চিঠিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর মৌখিক আক্রমণ, নারীর হিজাব খুলে ফেলা, শারীরিক আঘাত, মসজিদে হামলা ও অস্ত্র হিসেবে এসিড ব্যবহারের মাধ্যমে সহিংসতা ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পয়েন্ট দিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের পর্যায়ক্রমিক তালিকা তৈরি করে চিঠিতে বলা হয়েছে, সহিংসতায় অংশ নিলে পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে।অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া চিঠিতে পূর্ববর্তী বেশ কিছু মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ হাজির করা হয়েছে। কেন এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে এতে।
এদিকে,টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস ৩ এপ্রিলকে পানিশ এ মুসলিম ডে ঘোষনা দিয়ে বিভিন্নজনের কাছে পাঠানো বেনামী চিঠিকে জঘন্য এবং অসুস্থতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং যখনই কেউ আমাদেরকে বিভক্ত করতে আসবে আমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। মেয়র বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ এবং অন্যান্য পার্টনারদের সাথে কাজ করে যাচ্চেছ। এখন পর্যন্ত আমাদের কোন বাসিন্দা এজাতীয় চিঠি পেয়েছেন বলে কোন রিপোর্ট হয়নি। তবে পেয়ে থাকলে অথবা কোন উদ্বেগ থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরুধ রইলো। মেয়র স্থানীয় এমপি রুশনারা আলীর কাছে পাঠানো চিঠির নিন্দা জানিয়ে আরো বলেন একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটিকে আক্রমণের জন্য উসকানীএকেবারেই অগ্রহনযোগ্য এবং একে সহ্য করা হবে না। টাওয়ার হ্যামলেটসে উন্নয়নে মুসলমানদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করে জন বিগস বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই যেকোন ধরনের বিদ্বেষমূলক পূর্বধারণা ও অসহনীয় আচরনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি যারা এই কাজে লিপ্ত রয়েছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন