রেকর্ডের পঞ্চম উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি, ইউরোপে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ মাস আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বে এ বছর ফেব্রুয়ারি ছিল রেকর্ডকৃত পঞ্চম উষ্ণতম মাস। একই সময়ে পশ্চিম ইউরোপে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যা দেখা গেছে। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, গত মাসে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। শিল্পপূর্ব সময় বলতে ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়েছে, যখন বড় আকারে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শুরু হয়নি।

ইউরোপে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের চিত্র ছিল ভিন্ন ভিন্ন। মহাদেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ০ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত ১৪ বছরের মধ্যে তিনটি শীতলতম ফেব্রুয়ারির একটি। তবে কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেইঞ্জ সার্ভিসের তথ্যে জানা যায় পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে তাপমাত্রা ছিল গড়ের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বাল্টিক দেশগুলো, ফিনল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর তাপমাত্রা ছিল বেশি শীতল।

Manual1 Ad Code

সংস্থাটি তাদের মাসিক প্রতিবেদনে জানায়, মহাদেশজুড়ে আর্দ্র ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে। ইউরোপের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে বৃষ্টিপাত ছিল গড়ের চেয়ে বেশি। আর বাকি অঞ্চলের বেশিরভাগ জায়গায় ছিল গড়ের চেয়ে শুষ্ক। যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর-পূর্ব কানাডার, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা ছিল গড়ের চেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর্কটিকে সমুদ্রের বরফের বিস্তৃতি ছিল গড়ের তুলনায় পাঁচ শতাংশ কম। এটি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তৃতীয় সর্বনিম্ন।

Manual4 Ad Code

অ্যান্টার্কটিকায় ফেব্রুয়ারিতে সমুদ্রের বরফের বিস্তৃতি গড়ের কাছাকাছি ছিল। গত চার বছরে যেখানে এটি গড়ের তুলনায় অনেক কম ছিল, তার সঙ্গে এটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে কোপার্নিকাস।
কোপার্নিকাস পরিচালিত ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের জলবায়ু কৌশল বিভাগের প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন,‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির চরম আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা প্রভাবকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনও স্পষ্ট করেছে।’

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ইউরোপে তাপমাত্রায় তীব্র বৈপরীত্য দেখা গেছে। তার ভাষায়, ‘অস্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় নদী—অত্যন্ত আর্দ্র বাতাসের সরু প্রবাহ—পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও ব্যাপক বন্যা ডেকে এনেছে।’জলবায়ু বিজ্ঞানীদের নেটওয়ার্ক  ওয়ারল্ড ওয়েদার এট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্ল্্্্্্্্্্উিএ) জানিয়েছে, মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন প্রবল বর্ষণকে আরও তীব্র করেছে। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে এই বৃষ্টিতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন এবং হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code