সংস্কার প্রশ্নে পিছপা হলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual1 Ad Code

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘এবার যদি সংস্কার প্রশ্নে আমরা পিছপা হই, তাহলে দেশে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার দরকার, তা আসবে না। আমরা তো বিপ্লবের মাধ্যমে এসেছি। সেখানে সরকার তার ম্যান্ডেট নিয়ে মোটেও চিন্তিত না।’

শুক্রবার(২৭ ডিসেম্বর) খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual3 Ad Code

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার করে দিয়ে গেলে হবে না, সেটা চর্চা করতে হবে। যাতে মানুষ সুফল পায়। সংস্কার না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন হবে।

সংস্কারের পথে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আমি আস্থাশীল।’

Manual2 Ad Code

সংস্কারের পথে একমত হওয়ার বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের একে অন্যকে প্রতিপক্ষ ভাবার কারণ নেই। প্রতিপক্ষ তখন ভাবা হয় যখন মুখে বলি সংস্কার চাই, কিন্তু মনে মনে বলি সংস্কার চাই না। তখনই বিভেদটা বড় হয়।’

তিনি বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সবাই ঐকমত্য। কী কী সংস্কার প্রয়োজন? কে করবে? কত দিনের মধ্যে করবে, কী করলে এটা কার্যকর হবে, আগামী দিনগুলোয় সিদ্ধান্তগুলো নরমে-গরমে নিতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক কষ্ট গভীর হচ্ছে। অর্থনীতিতে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা শুধু একটি দলকে বিতাড়িত করিনি, রাজনৈতিক একটি সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি।

Manual8 Ad Code

চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, দখলবাজি এটাকে আমরা বাদ দিতে পারছি কি না। এটা নিয়েও একধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটাকে পুরোপুরি বিদায় দেওয়া যাবে কি না—সেটাই বড় বিষয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খল ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। আমরা হারিয়ে যওয়া মেরুদণ্ড ফিরে পেয়েছি। এই মেরুদণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে অনেক কাজ করতে হবে। পলাতকদের অপতৎপরতা, সিস্টেমের দুর্বলতা—এসব ট্যাকেল দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না ভাবতে হবে।’

সরকার শুরু থেকে ড্রাইভিং সিটে আমলাতন্ত্রকে বসানোর কারণেই আজ এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে। আমরা কথা বলেছি, কিন্তু আমরা একটা বিষয় করতে পারিনি, যেটা মুগ্ধরা করে দিয়ে গেছে। আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল, আমরা হয়তো সেটা পারিনি। আসল কাজটা তারাই করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নত গণতন্ত্র আছে, কিন্তু তা টাকা দিয়ে কেনা যায়। দৃশ্যমান ব্যয় ও অদৃশ্য ব্যয় হয় নির্বাচনে। যখন মনোনয়ন–বাণিজ্য হয় তখন রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হয়। এই সমস্যার কোনো সমাধান আমরা পাইনি। মনোনয়ন–বাণিজ্য, এটা বন্ধ করার ওষুধ তরুণদের হাতে রয়েছে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code